• আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

মারধরের পর মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে!


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি: জমি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে থানায় বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ওসির চড়-থাপ্পড়ের শিকার হয়েছেন এক বিচারপ্রার্থী। ওসি তাকে শুধু মারধর করেই ক্ষ্যান্ত হননি, মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

ওসির মারধরে ভুক্তভোগী টানা চার দিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার ৬ সেপ্টে. দুপুরে তার হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে মারধরের বিচার চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কমপ্লেন্টস সেলে অভিযোগ (অভিযোগ নং-স ৫৮৭) করেছেন দেলোয়ার হোসেন বেপারী।

কুমিল্লার বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে একই থানা এলাকার দেলোয়ার হোসেন বেপারী নামের এক ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক নামের ভুক্তভোগী  ব্যক্তির পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আইজিপি কমপ্লেন্টস সেলে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট বরুড়া থানায় সামাজিক একটা সমস্যা মীমাংসার জন্য দু’পক্ষ পুলিশের এসআই অলিউল ইসলামকে নিয়ে বসেন। উভয়পক্ষ আলোচনা করে একটা সমাধানের পথেও পৌঁছান। বৈঠক শেষে বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় থানার ওসি বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আবু বকরকে এক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে নিজ কক্ষে ডেকে পাঠান। সেখানে ওসি দরজা বন্ধ করে তার করা আগের একটা অভিযোগ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করেন, মাথার চুল ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এসময় ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিককে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ। তাকে মারধরের এমন দৃশ্য সেসময় ওসির কক্ষের বাইরে থাকা ১৬ জন প্রত্যক্ষ করেন এবং সাক্ষী হিসেবে তাদের সবার নাম, পিতার নাম, মোবাইল নম্বর স্বাক্ষরসহ অভিযোগের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বেপারী বলেন, ‘আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের একটা সমস্যা নিয়ে আমরা এসআই অলিউল ইসলামসহ বসেছিলাম। সেখানে আমরা সমাজের পক্ষে ১৬ জন উপস্থিত ছিলাম। বৈঠক শেষে আসার আগ মুহূর্তে ওসি সাহেব একজন পুলিশকে দিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে ডেকে নেন। নিজের রুমে নিয়ে তাকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন এবং গালিগালাজ ও মারধর করেন। এটি আমরা জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দেখেছি। আমরা মনে করি, ওসি এ অপমান শুধু আবু বকরকে করেননি, তিনি পুরো সমাজবাসীর গায়ে হাত তুলেছেন। এজন্য সঠিক বিচার চেয়ে আমরা আইজিপি কমপ্লেন্ট সেলে অভিযোগ করেছি।’

মারধরের শিকার আবু বকর জানান, ‘জমিজমা সংক্রান্ত একটি সমস্যা নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় আমরা সবাই থানায় গেলাম। ওসির সাথে দেখাও হয়, কথাও হয়। পরে এক পুলিশ এসে জানতে চায়, আবু বকর কে? আমি বলি আমি আবু বকর। তিনি আমাকে ওসি ডাকছে বলে আমার হাত ধরে ওসির কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।’ এরপর ‘ওসি বলে, তুমি কি আবু বকর? আমি জ্বি বলি। তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে বলে, তুই আমার লোকেরে (রফিক নামের এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি) অপমান করছস? আমি তখন মাথা নিচু করে থাকি। তিনি (ওসি) আমার চুল, কান ধরে অনেক টানা-হেচড়া করে এবং থাপ্পড় মারতে থাকে। পরে ওসি আমাকে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ডেকে এনে বের করে দেয়। এঘটনার পর আমি চার দিন জ্বরে ভূগেছিলাম’।

অভিযোগের বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা আমার মনে আসে না। আর আমি আবু বকর নামে কাউকেই চিনি না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে তদন্ত হবে, আমার অপরাধ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে তাতে সমস্যা কি? আপনার আগে এ বিষয়ে আমাকে আরো দুই সাংবাদিক ফোন করেছিল। আমি অভিযোগের কথা শুনে বিস্মিত হয়েছি।’