সংবাদ শিরোনাম
সেন্টমাটিনে ভাসমান ট্রলার থেকে মালয়েশিয়াগামী ১২২ রোহিঙ্গা উদ্ধার | রাঙ্গা সম্পর্কে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রংপুরে ফিরোজ রশীদের কুশপুত্তলিকা দাহ | ময়মনসিংহে অনলাইন জিডির উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | ইবির ভর্তি পরীক্ষাঃ ‘এ’ ইউনিটে জিরো থেকে হিরো এক শিক্ষার্থী | মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বাকৃবি প্রশাসন | ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহের চেষ্টা, কাজী ও বরকে কারাদণ্ড | টাঙ্গাইলে আবারো কালীমন্দিরে ভাংচুর | ৫ কেজি চালের দামে ১ কেজি পেঁয়াজ! | ‘সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে উল্লাপাড়ায় দুর্ঘটনা’- রেল সচিব | ‘জঙ্গিদের কাছে কোরআন-হাদিসের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে’- গণপূর্ত মন্ত্রী |
  • আজ ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অবশেষে উন্মোচন হলো ইলিশের জীবন রহস্য

৩:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ তথ্য জাদুঘর, শিক্ষাঙ্গন, সাফল্যের বাংলাদেশ, স্পট লাইট

বাকৃবি প্রতিনিধি- বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

শনিবার সকাল ৯ টার দিকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিতে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম। এই অধ্যাপকের নেতৃত্বেই গবেষণা শেষে জানা গেল মাছের রাজার পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য।

ইলিশ মাছের ভৌগোলিক স্বীকৃতি বা জিআই পাওয়ার পর দেশি ইলিশের রেফারেন্স জিনোম তৈরি করা, জিনোমিক ডাটাবেজ স্থাপন এবং মোট জিনের সংখ্যা নির্ণয় করার জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে গবেষণা শুরু করেন বাকৃবির গবেষকরা। তারই ফলশ্রুতিতে বিশ্বে প্রথমবারের মতো উন্মোচিত হলো ইলিশ মাছের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য।

পূর্ণাঙ্গ ইলিশ জিনোম সিকোয়েন্সিং ও অ্যাসেম্বলি টিমের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম সংবাদ সম্মেলনে তাদের গবেষণা কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে জানান, ইলিশ মাছের জিনোম আবিষ্কারের ফলে এর সংরক্ষণ ও উৎপাদনে গতি আসবে।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম বলেন, জিনোম হচ্ছে কোন জীবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবের জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াসহ সকল জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় জিনোম দ্বারা। ইলিশের জিনোমে ৭৬ লক্ষ ৮০ হাজার নিউক্লিওটাইড রয়েছে, যা মানুষের জিনোমের প্রায় এক চতুর্থাংশ। ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স জানার মাধ্যমে অসংখ্য অজানা প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে খুব সহজেই।বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ইলিশের স্টকের সংখ্যা (একটি এলাকায় মাছের বিস্তৃতির পরিসীমা) কতটি এবং দেশের পদ্মা, মেঘনা নদীর মোহনায় প্রজননকারী ইলিশগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্টক কিনা তা জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে। বছরে দুইবার ইলিশ প্রজনন করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে এই দুই সময়ের ইলিশ জীনগতভাবে পৃথক কিনা তা জানা যাবে। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট নদীতে জন্ম নেয়া পোনা সাগরে যাওয়ার পর বড় হয়ে প্রজননের জন্য আবার একই নদীতেই ফিরে আসে কিনা সেসব তথ্যও জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে। এরকম নতুন নতুন তথ্য উন্মোচনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে ইলিশের টেকসই আহরণ। ইলিশের জন্য দেশের কোথায় কোথায় ও কতটি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। দেশীয় ইলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের (ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য) ইলিশ থেকে জীনতাত্ত্বিকভাবে স্বতন্ত্র কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই গবেষক জানান, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করেন তারা। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম অ্যাসেম্বলী প্রস্তুত হয়। ওই বছরের ২৫ আগষ্ট ইলিশের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিনোম ডেটাবেজ ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনে (এনসিবিআই) জমা করা হয়। এছাড়াও ইলিশের জিনোম বিষয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল ২ টি আর্ন্তজাতিক কনফারেন্সেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ টিমে সদস্য হিসেবে আরোও ছিলেন পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান।

জাতীয় মাছ ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং এর গবেষণা কাজটি গবেষকবৃন্দের নিজস্ব উদ্দ্যোগ, শ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের মৎস্য সেক্টর পূর্ণাঙ্গ জিনোম গবেষণার যুগে প্রবেশ করেছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।

Loading...