• আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুর বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশ, দামও চড়া

❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ ঢাকা, দেশের খবর

ষ্টাফ রিপোর্টার- মাদারীপুর: মাছের মধ্যে লোভনীয় মাছ ইলিশের দাম সাধারণত একটু বেশিই থাকে। বছরের কোন কোন সময় দাম এতই বেশি থাকে যে, নিম্ন আয়ের একজন মানুষের পক্ষে ইলিশ মাছ কেনার সামর্থ থাকে না। বছরের বিভিন্ন সময়ে স্বল্প দামের চাষের মাছ খেয়ে যারা অভ্যস্ত ইলিশের দাম এখন কিছুটা কম হওয়ায় তারা বাজারে গিয়ে ইলিশের দিকেই ঝুঁকছেন। পরিমানে বেশি পাওয়া যায় বলে নিন্ম আয়ের মানুষেরা ছোট সাইজের ইলিশ বেশি কিনছে। তবে বাজার ভেদে কোথাও কোথাও মাছের দাম বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতে দাম কিছুটা বেশি ।

মাদারীপুরের বেশ কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের বাজারের অর্ধেকের বেশি স্থান দখল করে রেখেছে জাতীয় মাছ ইলিশ। আগে যেখানে শুধু পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ বেশি ছিল। কোরবানির ঈদের পর থেকেই জেলার হাট-বাজারগুলোতে ইলিশের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। দামের দিক দিয়ে আহমরি কম নয় এসব ইলিশের। বাজারে ইলিশের পরিমান বেশি থাকলেও দামের ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন চোখে পরছে না। চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ। তবে ‘আগুনমূল্য’ বলা যাবে না। মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে জাটকা ইলিশের দাম তুলনামুলক ভাবে বেশ কম। মাদারীপুরের স্থান ভেদে বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজরে ইলিশের দামের পার্থক্য রয়েছে। ১ কেজি ৩শ’ থেকে ১ কেজি ৪শ’ গ্রাম পরিমান মাছের পাইকারী দাম ১৬শ’ টাকা, ১ কেজি পরিমান ১২শ’ টাকা, ৫শ’ গ্রাম পরিমান মাছের দাম ৭শত থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা, ৩টায় ১ কেজি হয় এরকম মাছের দাম ৫শ’ এবং জাটকা’র দাম দুইশ’ থেকে আড়াই শত টাকা। তবে আড়ৎ এ মাছের পরিমান বেড়ে গেলে দামের পরিমানও একটু কমে যায়নি বলে পাইকারী বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

মস্তফাপুর বাজারে সকালে মাছ কিনতে আসা হাবিব হাওলাদার বলেন, ৫/৬ পিচ মাছে ১ কেজি হয়, এরকম ইলিশের দাম কিছুটা কম হওয়ায় নি¤œ আয়ের মানুষেরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে । এছাড়াও বড় ইলিশের দামও অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু কম। এই সময়টা একটু বেশী ভাল বড় ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও বছরের বেশীর ভাগ সময় ইলিশ মাছ পাওয়া যায় তবে তুলনা অনুযায়ী এবং মাছের দামও চড়া থাকে।

শহরের ইটেরপুল বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসা মনজুর হোসেন বলেন, বাজারে মাছের পরিমান ভালো। কিন্তু সে অনুযায়ী দামও বেশি। গত বর্ষা মৌসুমের তুলনায় বর্তমানে মাছের দাম অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি মাছে ডিম রয়েছে। সরকার যদি ডিমওয়ালা মাছগুলো এখন থেকেই ধরা নিষিদ্ধ করতো তা হলে আগামী বছরে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যেতে। সাধারন মানুষও কম দামে কিনতে পারতো।

মাছের খুচরা বিক্রেতা বাচ্চু খন্দকার বলেন,‘মোকামে ইলিশ মাছ এখন বেশি। প্রচুর পরিমানে ইলিশ আসছে আড়ৎগুলোতে। পাইকারী বাজারে দামও কম। আগের চেয়ে কিছুটা কম দামেই এখন ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারাও গত এক সপ্তাহ ধরে দাম কিছুটা কম থাকায় ইলিশ মাছ কিনছে। হাট-বাজারগুলোতে এখন অন্য মাছের চেয়ে যেমন বেশি উঠছে ইলিশ মাছ, তেমনই বিক্রিও বেশি হচ্ছে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাসস্টান্ড মায়ের দোয়া মৎস আড়ৎ এর ব্যবসায়ী রনি ঢালী বলেন,‘ গত কয়েকদিন ধরে ইলিশ মাছের পরিমান বেড়েছে। দাম কিছুটা কমও।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদারীপুর পুরান বাজার মৎস আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান,‘বরিশাল ও চাঁদপুর অঞ্চল থেকে তাদের এখানে ইলিশ আসে। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় দামের উপর প্রভাব পরে। শিবচরে পদ্মার চরাঞ্চলের জেলেরা যে সকল ইলিশ ধরে থাকে তা স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করে থাকে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, শিমুলিয়া, লৌহজং এলাকাতে বিক্রি করে থাকে।’

মাদারীপুর জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘মাদারীপুরের বাজারগুলোতে ইলিশের বেশ আধিক্য রয়েছে। তাছাড়া পদ্মানদীতেও জেলেদের জালে বেশ ইলিশ ধরা পরছে। আর একারনেই বাজারগুলোতে ইলিশের দামও তুলনামূলক কম।’ প্রতিবছর অক্টোবার মাসে ২২ দিন সকল ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও এখনো আমাদের কাছে কোন চিঠি আসে নাই ডিমওয়ালা মাছ ধরা নিষেধ কবে থেকে।

তিনি আরও বলেন, এখন যে মাছে ডিম পাওয়া যায়, সেই মাছের পরিপূর্ণ ভাবে ডিম ছাড়ার সময় আসে নাই। আর  ডিমওয়ালা মাছ ধরা কবে থেকে নিষেধ করবে তা নির্ধারন  মৎস গবেষণা কেন্দ্র।