দুর্গাপুর পৌরসভার জলাবদ্ধতায় জনদূর্ভোগ চরমে

⏱ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ 📁 দেশের খবর, ময়মনসিংহ

কলি হাসান,দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:  জেলার দুর্গাপুর পৌরসভার জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম নাখাল অবস্থার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,পৌরসভাস্থ ৪নং ওর্য়াডের উকিলপাড়া এলাকার কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন আশপাশের এলাকার মানুষ জলাবদ্ধায় বেগতিক দিনাতিপাত করছে। প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন দূর্ঘটনা যা দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এ এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই পানিতে উকিল পাড়াস্থ এলাকার অনেকের বাড়িতে পানি উঠে যায়। পরদিন পানি সেঁচে বাসা বাড়িতে জীবন যাপন করতে দেখা গেছে।এরকম দূর্ভোগের মুখে কতদিন থাকা যায় বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঐ এলাকায় বসবাসরত ভোক্তভোগীরা।

জনচলাচলের অন্যতম ব্যস্থ রাস্তা সাবেক দুলাল কমিশনারের দোকান এর পশ্চিম দিক থেকে সমশের মেকার এর বাসা হতে পান মহালের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত রাস্তাটি জরুরী ভিত্তিতে মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আওতায় এনে দ্রুত এলাকার মানুষদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস আনয়ন করা এখন সময়ের দাবি এলাকাবাসীর। সংশ্লিষ্ট ওর্য়াডের কাউন্সিলর শীতল চন্দ্র শীল নির্বাচনে উন্নয়নের ফুলজুড়ি মাখিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে বনে যান বিশাল নেতা। এমনকি বাগিয়ে নেন দুর্গাপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ পদটিও।নিজের আখের গোঁজানোর চিন্তা করেই চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন টি.আর,কাবিখা,সোলার বিতরণ কর্মসূচীর নানান কার্যক্রম ইত্যাদি। নামে বেনামে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন কোটিপতির আসনে বসে নাড়ছেন বিভিন্ন ধরণের কলকাঠি।

উকিলপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সমশের আলী প্রতিনিধিকে জানান দিনের পর দিন ট্যাস্ক বাড়ছে কই সেবা পাইতাছি না।আর বৃষ্টির পানির সাথে প্রতিদিন যুদ্ধ করে রুটিরুজির সংসার চলে আমার। আমার বাসার পাশ দিয়ে প্রতিদিন কত মানুষ জমে থাকা পানিতে পা পিছলিয়ে আঘাত পেয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এগুলো কর্তৃপক্ষ দেখে না সম্প্রতি এক স্কুল ছাত্রী হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেয়েছে এমনকি তাঁর ঐ দিন স্কুলে যাওয়াও হয়নি। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর শীতল চন্দ্র শীল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন পৌর প্রকৌশলী রাস্তার অবস্থা দেখে আসছে অচিরেই এঁর একটা ব্যবস্থা করা হবে ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাও করা হবে।পৌরসভার ৫নং ওর্য়াডের বাগিচাপাড়া এলাকায় সামান্য বৃস্টি হলেই ইটের রাস্তা অতিক্রম করে পানি যেতে থাকে বিভিন্ন বাসা বাড়ীর ভিতরে। সেখানে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ঐ এলাকার মানুষের মাঝে এক বিঘ্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আর রৌদ্র হলে জমাট পানিতে ময়লা আবর্জনার র্দূগন্ধে বাসা বাড়িতে অবস্থান করাটা অনেকটাই কষ্ট হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে অশুস্থতার মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলছে। ঐ এলাকার যাদের ঘরে ছোট বাচ্চা রয়েছে তাঁদের ঘরে কোন ভাবেই থামছে না অসুস্থতার মিছিল।সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন আমার ওর্য়াডের বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা করনের মধ্য দিয়ে ঐ এলাকার সমাধান করা হবে।  বাগিচাপাড়াস্থ এলাকার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ের পিছনের দিকের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে,এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা আঃ মোতালেব বলেন আমার বাসার পিছনে যে পানি জমে থাকে তা কোন স্থানে স্থানান্তর প্রক্রিয়া না থাকায় খুব কষ্টের মাঝে বসবাস করছি। পানি ঝমে থাকার জন্যে বাসা বাড়ী ভেঙ্গে আবারো নতুন করে বাড়ী নির্মাণ করেছেন ঐ এলাকার একাধিক পরিবার।

পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করে তিনি বলেন আমরা অতিদ্রুত এর একটা সমাধান চাই,যাতে সুন্দর পরিবেশে আমাদের প্রজন্মকে বড় করতে পারি।সেই একই দৃশ্য চোখে পড়ে। জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ বিষয়ে পৌর মেয়র আলহাজ¦ আব্দুস সালাম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন এ সকল সমস্যরা সমাধানে একটি পরিকল্পনা আছে তবে তাঁর সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে ।