যশোরে চাঁদার দাবিতে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট

❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ খুলনা, দেশের খবর

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার গিলাপোল গ্রামে চাঁদার দাবিতে কুখ্যাত মিলন বাহিনী শনিবার রাতে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সলমন দাসের(৪৩) বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এ সময় বাড়ির মহিলাদের পিটিয়ে আহত করে। পুলিশ এ ঘটনায় ৮ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও সলমন দাস জানান, স্থানীয় কুখ্যাত মিলন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সলমন দাস চাদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শনিবার রাত সাড়ে দশটায় কুখ্যাত মিলন বাহিনী তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে  তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও মারপিট করে ঘরে রক্ষিত জমি বিক্রয়ের নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৮ভরি স্বর্ণালংকার, ৩টি দামি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।চলে যাওয়ার সময় তারা বাড়ির আসবাবপত্র ও টিভি ভাংচুর করে। আহত সলমন উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামের জুরান দাসের ছেলে।

মিলন বাহিনীর ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য ভাইপো আশিক, মমিন, আশরাফুল, ম্যানেজার শরীফ, লালচাঁন, ড্রাইভার ভূট্টোসহ সলমনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর চাল নো হয়। এ সময় তার বাবা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে লাঞ্চিত করে তারা। গ্রামের লোকজন ভয়ে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আসার পরপরই তারা সটকে পড়ে।

হামলা কারীরা চলে যাওয়ার সময় সলমনকে হত্যার হুমকী ও মামলা না করার জন্য নিষেধ করে যায় সে এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে এই বাহিনীর সদস্যরা আমার শালি মায়া মারিয়া কর্মকারকে আগুন ধরিয়ে মারার চেষ্টা করেছে। ঐ মামলায় এখনও কোন আসামী ধরা না পড়ায় তারা ্ ধরনের হামলা ও লুটপাট করতে সাহস পায়।

উলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আয়নাল হক বলেন, আমি ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে পুলিশকে জানাই এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌছাই। মিলন বাহিণী অবৈধভাবে একটি পার্ক চালায়। যেখানে সব সময় অনৈতিক কর্মকান্ড চলছে। আমি বরাবরই এর প্রতিবাদ করে আসছি।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিয়ার রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার সাথে জড়িত ৮ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা হয়েছে শার্শা থানায় মামলা নং:১৭ এবং তারিখ : ০৯.০৯.১৮।