🕓 সংবাদ শিরোনাম

রোজিনার সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের জেলে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহকেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে যুবতীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারপাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে নারী ও শিশুসহ ২৪জন আটকসাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়: ভিপি নুরসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফআর এমন ভুল হবে না: নোবেলস্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন নিয়ে থানায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরাইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাস্তায় ঢাবি শিক্ষক সমিতিযমুনা নদীতে ডুবে তিন কলেজ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতাকে তথ্য চুরি বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুঃখ আর নেই’

  • আজ বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৯ মে, ২০২১ ৷

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার সমস্যায় ভোগান্তিতে হাজার শিক্ষার্থী


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের দিন শুরু হয়েছে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে। কিন্তু শুরুর দিন থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে বগুড়ার শেরপুরের হাজার হাজার ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকায়ণের পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কাজ অনলাইনে করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ডিগ্রী ভর্তি ফরম, মাস্টার্স ১ম বর্ষ রিলিজের আবেদন, মাস্টার্স শেষ বর্ষ (প্রাইভেট) এর ভর্তি ফরম ও অনার্স ১ম বর্ষের এর আবেদন ফরম পুরণ গত কয়েক বছর আগ থেকেই শুরু হয়েছে অনলাইনে। কিন্তু এইসব আবেদন ফরম পূরণ করতে এসে সার্ভার সমস্যার জন্য বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।

শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ড, কলেজ রোড, মির্জাপুরসহ শহরের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে কথা বলে জানা যায়, সারাদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে প্রবেশই করা যায়না। আবার কখনো কখনো প্রবেশ করা গেলেও আবেদনের শুরুতেই বা মাঝামাঝি বা শেষ পর্যায়ে গিয়ে সফল হওয়া যায়না। এদিকে প্রতিনিয়ত গ্রাম গঞ্জ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা অনলাইন পয়েন্টে এসে ভীড় করছে কিন্তু কোন সার্ভিস না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। তাদের আবেদনের সময় সীমা শেষ হওয়ার পথে গেলেও কর্তৃপক্ষের বিশেষ কোন পদক্ষেপ এখনও নজরে আসেনি। বিশেষ করে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী বেশী হওয়ায় তারা বেশ বিচলিত হয়েই ঘোরাঘুরি করছে অনলাইন পয়েন্টগুলোতে। সর্বশেষ অনলাইন পয়েন্ট মালিকেরা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে গভীর রাতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন আবেদন সম্পন্ন করার। শহরের বাসষ্ট্যান্ডে অবস্থিত রুমা কম্পিউটারের রিপন ও নয়ন মাহমুদ জানান, গতরাতে সারারাত জেগে ১৮০ টা বুকিং নেয়া ফরমের মধ্যে মাত্র ২৯ টা সফল হতে পেরেছেন। তারা জানান, সারারাত প্রচেষ্টার ফলে ভোর ৪ টার দিকে কিছু কিছু কাজ করতে পেরেছেন।

আজাদ কম্পিউটারের মালিক জানান, এক দিকে সরকারের সব কিছু ডিজিটালাইজ্ড করার ঘোষণা অন্যদিকে সার্ভার সমস্যা এ যেন গরীবের ঘোড়ারোগ। এখন ব্যবসার মোক্ষম সময় কিন্তু কাজ করতে পারছিনা। তাই বাধ্য হয়েই গভীর রাতে কাজ করে কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। এদের মধ্যে অনেক দোকান মালিক রয়েছে যারা এই ব্যবসার পেছনে টাকা বিনিয়োগ করতে গিয়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছে ঋনী হয়ে পড়েছেন। এখন আশানুরুপ কাজ করতে না পেরে তাদের পথে বসার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সাইদুর রহমান নামে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি গত তিন দিন ধরে চেষ্টা করেও অনলাইনে আবেদন পাঠাতে পারেননি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীর রোল নম্বর দিয়ে ক্লিক করা হলে কোনো কাজ হয় না। একই সমস্যায় ভুগছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সামিট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা উম্মে হাবিবা নিরা নামে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি গত তিন দিন ধরে চেষ্টা করেও অনলাইনে আবেদন পাঠাতে পারেননি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করার পর রোল নম্বর দিয়ে ক্লিক করা হলে তার এইচএসসি রোল তার নয় বলে নোটিশ দেখানো হচ্ছে অথচ রোলটি তার। এ রকম আরো বহু সমস্যা বিরাজ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারে। ফলে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তির আবেদন করতে পারবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

নিজের সন্তানের আবেদন ফরম পূরণ করতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, দেশকে ডিজিটালাইজ্ড করার নামে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটই এখন পর্যন্ত মানসম্মত করতে পারছেন না তাহলে কী আমরা ধরে নেব যে, এ সবই লোক দেখানো? খুব দ্রুত সার্ভার সমস্যা সমাধান করে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে আবেদন সুযোগ করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছে ভুক্তভুগি সকল শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।

বগুড়ার শেরপুরে যুব উন্নয়ন অফিসের নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অর্থ আত্মসাত এবং কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ৪টি ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ কোর্সের ১৬০টি সার্টিফিকেট নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সকল পক্ষকে ম্যানেজ করতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর শেরপুর উপজেলা কার্যালয়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ৪টি ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ কোর্সের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। প্রকল্প ৪টি হলো উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শালফা ওয়েসিস কোচিং সেন্টারে কাঠ মিস্ত্রি প্রশিক্ষণ (২১ দিন), সাতারা ব্রাক স্কুলে বাঁশ ও বেতের কাজ বিষয়ক প্রশিক্ষণ (২১ দিন), পারভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোমবাতি তৈরী প্রশিক্ষণ (১৪ দিন) ও আলতাদিঘি বোর্ডের হাট ফাজিল মাদ্রাসায় গরু মোটাতাজাকরন প্রশিক্ষণ (৭ দিন)। প্রতিটি প্রশিক্ষণ কোর্সে ৪০ জন করে মোট ১৬০ জনের নামের তালিকা প্রেরণ করা হয়। প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ার পর কোন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই প্রশিক্ষণে বরাদ্দকৃত সম্পূর্ন টাকা আত্মসাত করা হয় এবং ১৬০ জনের নামে ইসুকৃত সার্টিফিকেটগুলো নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উপ-পরিচালক দিরাজ চন্দ্র সরকার (চলতি দায়িত্ব) বগুড়ার ছত্রছায়ায় নানা অনিয়ম দুর্নীতি করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না। সকলের মাঝে প্রচার রয়েছে উপ-পরিচালক প্রতিমন্ত্রী বিরেন শিকদারের আত্মীয় তাই সকলেই তাকে তোয়াজ করে চলেন। শেরপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার বিজয় চন্দ্র দাস এই উপজেলায় দীর্ঘ ৭ বছর হলো চাকুরী করলেও তাকে অন্যত্র বদলী হতে হয়নি। আর এই কারনেই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর শেরপুর উপজেলা কার্যালয়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ৪টি ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষন অনুমোদনের জন্য একটি ভুয়া তালিকা তৈরী করে। অথচ তালিকা তৈরীর পূর্বে সকল প্রশিক্ষনার্থীদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নেয়ার কথা কিন্তু যেহেতু সবগুলো তালিকাই ভুয়া তাই সেগুলো না নিয়ে নামকাওয়াস্তে ইচ্ছেমত নাম প্রেরণ করে।

এই ৪টি প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহনকারীদের খোঁজ নিতে সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে আরো নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। সাতরা ব্রাক স্কুলে বাঁশ ও বেতের কাজ বিষয়ক প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহনকারীর তালিকায় ১১ নং ব্যাক্তি বিনোদপুর গ্রামের গোলাম আজমের ছেলে ইমরান আলী জানান, তিনি কখনোই এই প্রশিক্ষণ দেননি। এমনকি তার ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিও তিনি ওই অফিসে দেননি। তালিকায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেয়া আছে এইচএসসি পাশ অথচ তিনি এসএসসি পাশও করেননি। আবার ১২ নং তালিকায় রেফাইতুল নামের ব্যাক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেনী লেখা থাকলেও তিনি মার্স্টাস পাশ।

অপরদিকে তালিকায় ১০ নং ব্যাক্তি জুয়েল রানার ঠিকানায় ওমরপাড়া লেখা হলেও তিনি বিনোদপুরের বাসিন্দা। আর ওমরপাড়ার বাসিন্দা আলমগীর ও শফিকুল ইসলাম হলো সুঘাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, তারা কেন বাঁশ ও বেতের প্রশিক্ষণ নেবেন। তাদের বংশে ও গ্রামে কেউ বাঁশ ও বেতের কাজ করেননি।

অনুরুপভাবে কাঠমিস্ত্রি প্রশিক্ষণ, মোমবাতি তৈরী ও গরু মোটা তাজাকরণ প্রশিক্ষণের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা কেহই এই প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেননি। এছাড়া প্রশিক্ষণের জন্য যে সকল ভেন্যুর নাম ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে কোন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। মুলত প্রশিক্ষণে ট্রেইনারদের সম্মানীভাতা সহ যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল তা আত্মসাতের জন্যই এই প্রশিক্ষনের নাটক সাজানো হয়েছিল। আর সার্টিফিকেটগুলো যেহেতু অফিসের বোঝা তাই তিনি দেশের বাড়ীতে যাবার সময় ১৬০টি সার্টিফিকেট নদীতে ফেলে দেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অফিসার বিজয় চন্দ্র দাস বলেন সকল প্রশিক্ষণ যথা নিয়মেই হয়েছে। পরে সাংবাদিকরা রেজিষ্ট্রার বহি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দিনের বিষয় তাই আপনারা ওইগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি না করলেই ভাল হয়, বুঝেনতো সব সময় সব কিছু মেনে চলা যায়না। এক পর্যায়ে তিনি সব কিছু স্বীকার করে বলেন, ৩টি প্রশিক্ষণ হয়নি, আর সার্টিফেকেটগুলো হারিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।