সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরেও ‘নিউজ সিন্ডিকেট’

২:০৭ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ দেশের খবর, ফিচার

সংবাদের একটা সিন্ডিকেট থাকে। সব স্থানে, সব সময়। কোনো বিশেষ প্রতিবেদনের সঙ্গে জড়িত থাকেন একাধিক তথ্যদাতা (সোর্স)। সংবাদের সোর্স নিয়ন্ত্রণ করেন সংবাদকর্মী।

পুলিশেরও সোর্স থাকে তবে সংবাদের সোর্স এক রকম নয়। পুলিশের সোর্স বেশিরভাগই থাকে মাদক কারবারি, কোনো অপরাধী বা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এক্ষেত্রে অনেক সাংবাদিকদের এমন সোর্স থাকলেও মূল সোর্স ধরা হয় প্রতিবাদী বা সচেতন মানুষকে।

সিন্ডিকেট গাজীপুরেও থাকবে। এটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কি কোনো সিন্ডিকেট থাকে?

এটি কি স্বাভাবিক? না, বরং এটি অস্বাভাবিক। কিন্তু হরহামেশা এরকম সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের প্রতিযোগিতা সব সময় চালু ছিল, এখনও আছে। এটি না থাকলে একান্ত বা এক্সক্লুসিভ শব্দের অর্থ-তাৎপর্য কিছুই থাকবে না। বরং একান্ত শব্দটি বিলীন হবে। কিন্তু সাধারণ ঘটনা চেপে যাওয়ার প্রবণতায় কি লক্ষ্য করা যায়?

যাদের ঘটনা প্রকাশ করার কথা, তারা যদি ঘটনা চেপে রাখে, তাহলে ওই ঘটনার সংবাদ মূল্যে কি থাকে? কাল যদি কোনো মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকে, তাহলে যেকোনো পক্ষ (মামলার বাদী, আসামী, আইনজীবী, আদালত কর্তৃপক্ষ) গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য প্রদান করে সংবাদ উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। একইরকমভাবে অন্যকোনো অফিসের ঘটনাও একই প্রভাব বলয়ে।

কিন্তু কোনো কোনো সাধারণ ঘটনাকে একান্ত ঘটনায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে অনেকেই সাধারণ ঘটনাকে চেপে যায়। ফলে যাদের সঙ্গে ‘দহরম-মহরম’ থাকে তাদের মোলাকাত ঘটলেও সংবাদ উৎপাদন হয় না।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ‘মিডিয়াকর্মী’ বিভিন্ন ঘটনা নিজের মতো করে উপস্থাপন করে। ফলে কোনো কর্তৃপক্ষের এডিটের ব্যাপার থাকে না। আবার এডিট করে বা না করে ওই ঘটনাকে সংবাদ হিসাবে উপস্থাপন করারও দায় থাকে না। অন্তত এটুকু বলা সম্ভব যে, আমি যে ঘটনায় হাজির ছিলাম, তার সাক্ষী করে রাখলাম ফেসবুক বা টুইটার। খবরও পাঠিয়েছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার সংবাদ মূল্যে খোঁজে পায়নি, ফলে ট্র্যাশ করে ফেলেছে (আগে আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলা হতো)। এটি একটি বাড়তি সুবিধাও বটে। কারণ ফেসবুক বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম। যদিও ফেসবুককে কেউ মূল ধারার গণমাধ্যমের স্বীকৃতি দিতে চায় না। এটি বিকল্প গণমাধ্যম হিসাবে পরিচিত। আবার যেকোন মূলধারার গণমাধ্যমের চেয়ে কম করপোরেট নয় ফেসবুক। বরং অধিক শক্তি খাটায় নিজস্ব ফিল্টারিং পদ্ধতিতে। যেমন- অশ্লীল বা বিভৎস কোন ছবি ফেসবুক গ্রাহ্য করে না।

মূল কথায় যাই। গাজীপুরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সাংবাদিকদের একাধিক পেশাগত, আদর্শগত বা ব্যক্তিগত সংগঠন চালু রয়েছে। নিতান্ত সাধারণ মানুষের পক্ষে এদের সাইনবোর্ডের রঙ, ধরণ, প্রকৃতি, দ্বন্দ্ব অনুমান করার সাধ্য কোন সময় ছিল না, ভবিষ্যতে সম্ভাবনা তৈরি হবে এটি অসম্ভব না হলেও, কতটা সম্ভব এর নিশ্চয়তা নাই। এদের মধ্যে কে অভিজাত, কার চুলে কত পাক ধরেছে কে জানে? এরা প্রতিযোগিতা করে কোথায়, কিভাবে, কখন প্রথম হয় সেটিও জানার জো থাকে না।

সবচেয়ে মজার বিষয় মিডিয়াটি যদি হয় ‘আন্ডার গ্রাউন্ড’। তাহলে সংবাদ প্রেরণের কোন চাপ থাকে না। যেখানে সিন্ডিকেট জমবে, সেখানে আড্ডায় মেতে পকেট ভারি করতে পারলেই হলো। এমনকি যদি খবর না পাঠিয়ে, কেবল আম কাঁঠালের চালান পাঠিয়ে টিকে থাকা যায় তাহলে তো কথাই নেই।

মোটাদাগে, যত কথা বলছি এসবের আর একটা গোপন কারণ প্রকাশের জন্য। অভিজাত সাংবাদিক বা অভিজাত প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক বা অভিজাত মিডিয়ার সাংবাদিক যে পরিচয়ে নিজেকে ধন্য করুক না কেন, নিজের আসল পরিচয় টিকিয়ে রাখতে না পারলে এসব পরগাছা পরিচয় সময় মতো কাজ হয় না। চেয়ার গরম হয়ে যায়। সাহস হঠাৎ করে গজায় না, একটি দীর্ঘ অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে সাহস বেড়ে ওঠে। কোন কোন সাহস দুঃসাহসে পরিণত হয়। সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করলে সাহস থাকা আবশ্যিক শর্ত।

আমরা সাহসের সঙ্গে সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন যাত্রায় অবগাহন করছি। আমাদের এড়িয়ে চলা যাবে, কিন্তু সরিয়ে ফেলা যাবে না। বিরোধীতা করতে পারবেন, কিন্তু অস্বীকার করতে পারবেন না। বরং বিরোধীতা করতে হলে আমাদের কথা বারবার উচ্চারিত হবে।

এও এক যাত্রা। কাঁটা মিশানো যাত্রা। সাহস নিয়েই মোকাবেলা করতে চাই। ক্ষুদ্র বলয় গড়ে তুলতে চাই। মোটেও সিন্ডিকেট নয়। তবে নিউজ সিন্ডিকেট।

লেখক: আসাদুল্লাহ বাদল, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক যোগফল।