• আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, রাত ১০:০০

‘পতাকায় মোড়ানো একেকটি স্কুল যেন একেকটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশ’

❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮ ঢাকা

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল : স্কুল নয়, যেন একেকটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশ। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো দৃষ্টিনন্দন ১৫৭ টি স্কুল ভবন উপহার দেয়া হয়েছে শিশুদের। শিশুদের স্কুলগামী করা, ঝরে পড়া রোধ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে হাতেখড়ি দেয়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এ ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে।

গোপালপুর উপজেলার ১৫৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিটি ভবন লাল সবুজের রঙ্গে আঁকিয়ে জাতীয় পতাকার চিত্রে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে ভবনগুলো অঙ্কন করায় একেকটি স্কুলকে দেখলেই মনে হয় যেন একেকটি লাল সবুজের বাংলাদেশ। কোন-কোন স্কুলের ভেতরের দেয়ালও একই ভাবে মনোরম চিত্রে শোভায়িত করা হয়েছে। সে খানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্রকেও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনজু আনোয়ারা ময়না সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, এটি একটি মডেল। লাল সবুজ পতাকায় মোড়ানো ভবন মানেই সেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ জন্য কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুজে বের করতে কষ্ট করতে হয় না।

তিনি আরো বলেন, প্রথম শ্রেণিতে পড়া একটি শিশু এখন সহজেই জাতীয় পতাকা চিনতে পারে। স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে সে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। লাল সবুজকে মন থেকে সে ভালোবাসতে শুরু করে। জাতীয় পতাকার সাথে- সাথে সে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে দারুন পছন্দ করে। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত আর মুক্তিযুদ্ধ তার হৃদয়ে একাকার হয়ে যায়। শিশুটি মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নিয়েই বড় হয়ে উঠার পাশা-পাশি নিখাদ দেশ
প্রেমের সাথে পরিচিত হবে।

এ প্রসঙ্গে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রুমি সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, গোপালপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৭ হাজার শিশু পড়া-লেখা করে। এ সব শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ শেখানোর পাশা-পাশি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য সেকেন্ড হোম করার চিন্তা থেকেই ‘এক্সিল্যান্ট স্কুল’ নামে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস নেয়া হয়। এতে ব্যাপক সুফল মিলেছে বলেও তিনি জানান।