🕓 সংবাদ শিরোনাম

খেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরবত্রিশালে সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুতে নিহতের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতমকলাপাড়ায় এক সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধারটাঙ্গাইলে কৃষক শুকুর মাহমুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার-১

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

এই অবস্থা দেখতে হবে তা কখনও ভাবিনি : ড. কামাল


❏ শনিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমি ৪০/৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন দেখছি। কিন্তু কোনো দিন এমন চিত্র দেখিনি। পুলিশ কারো আদেশিত হয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন মানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেখানে সরকারি দলের লোক থাকে। বিরোধী দলের লোক থাকে। যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাদের ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যেতে হয়। আবেদন করতে হয়। কিন্তু আর ৭ দিন পর ভোটের কি অবস্থা হবে তা আপনারা বুঝতেই পারেন। আমাদের যারা প্রার্থী তাদের পুলিশের বিরুদ্ধে কি ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে তা নজিরবিহীন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি ঢাকায় চার দিনের জনসভা ও গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া, ২৭শে ডিসেম্বর বেলা ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জনসভা করার ঘোষণা দেন তিনি। ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও নেতাকর্মীদের হয়রানির লিখিত তথ্য তুলে ধরা হয়। আসন্ন নির্বাচনে জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ না দিলে দেশে মহা সংকটের সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেন ড. কামাল।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনও সামনে সাত দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি গ্রেপ্তার বন্ধ করে, প্রচার-প্রচারণার সমান সুযোগ দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। তা না করে ভাঁওতাবাজির নির্বাচন করলে তা কেউ মেনে নেবে না।

ড. কামাল বলেন, যে তথ্যগুলো দেয়া হয়েছে- তা নজিরবিহীন। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, এভাবে পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া। যারা ভোট চাইতে যাচ্ছে তাদের ওপর পুলিশ ও সরকারি দল মিলে আক্রমণ করছে। এটা আগে কখনো হয়নি। এমন আর দেখিনি। যেভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ধ্বংস করা হয়েছে এটা কল্পনাও করা যায় না। এটা যেন অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। না হলে সংবিধান লঙ্ঘন করার অপরাধ হবে। সংবিধানকে ভঙ্গ করার অপরাধ হবে। তিনি বলেন, হামলা দেখে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় আদেশ-নির্দেশের ভিত্তিতে এগুলো করা হচ্ছে। এটা সংবিধানকে সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন।

আমি ধরেই নিয়েছিলাম নির্বাচনের আগে কিছু তো হবেই, তবে এই অবস্থা দেখতে হবে তা কখনও ভাবিনি।

এ সময় তিনি বলেন, ভোটবাক্স দখল করে নির্বাচনে জয়লাভ করলে জনগণ সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না। স্বীকৃতি না দিলে এই বিজয়ের কোনো অর্থ হয় না। অর্থহীন বিজয়ের চেয়ে বিজয় না হওয়া অনেক ভালো। আমি অনুরোধ করবো- নির্বাচন হতে দেন।

ড. কামাল বলেন, এদেশের মানুষ সচেতন। তারা চায় অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন। এই দেশের মানুষ বহু মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সুতরাং স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। এই নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ৪৭ বছর পরে সংবাদ সম্মেলনে আজ কথা বলতে হবে এর চেয়ে আমার দুঃখের বিষয় নেই।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ড. কামাল বলেন, পুলিশের কর্মকাণ্ডে আমি অবাক হয়েছি। সংবিধান লেখার সময় পুলিশের ভূমিকা লেখা হয়েছিল ‘নিরপেক্ষ’। পুলিশ কোনো দলের কিংবা রাষ্ট্রের হবে না। তবে এখনকার পুলিশ কাউকে বিরোধীদলীয় মনে করলেই ধরে ফেলে, অর্থাৎ সংবিধানে যে নিরপেক্ষ শব্দটি লেখা আছে, তার ষোল আনা পরিপন্থি কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।