‘আর যাই করুন, প্রেম করবেন না’


❏ শনিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ‘আর যাই করুন, প্রেম করবেন না। প্রেম করলেও ফেসবুকে প্রেম তো একেবারেই করবেন না।’ পাকিস্তানের কারাগারে প্রায় ছয় বছর জেল খাটার পর এমনই এক উপদেশ দিলেন ভারতের এক যুবক।

ফেসবুকে প্রেমে পড়ে জীবনের ছয়টি মূল্যবান বছর তাকে কাটাতে হয়েছে পাকিস্তানের কারাগারে। চলতি সপ্তাহে দেশের মাটিতে পা রাখার পর ভারতের যুবক-যুবতীদের উদ্দেশে এমনই উপদেশ দিলেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হামিদ নিহাল আনসারি।

আনসারি জানিয়েছেন, ফেসবুকে তিনি পাকিস্তানের এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। ওই মেয়েটি তাকে জানায় জোর করে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ‘বলপূর্বক’ ওই বিয়ে বন্ধ করার জন্য এবং প্রেমিকাকে বাঁচাতে আনসারি অবৈধ পথে পাকিস্তানে চলে যান। ভিন দেশে মেয়েটির সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে বন্দী রাখা হয়।

এই ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ছয় বছর।সাজা শেষে গত মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে পৌঁছে এখন স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।

যুবসমাজদের প্রতি আনসারি অনুরোধ করেন, ‘নিজের বাবা-মায়ের কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রাখো না। শুধু নিজের বাবা-মাই জীবনের কঠিন সময়ে তোমার পাশে দাঁড়াবে এবং ভবিষ্যতে যেখানেই যাও না কেন, অবৈধ উপায়ে কখনো যেও না!’

ফেসবুকে প্রেমে পড়া মানুষদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকি নেবেন না। দুমদাম প্রেমে পড়বেন না। ফেসবুকে বিশ্বাস করে প্রেমে তো একেবারেই পড়বেন না।’

আনসারি জানান, কারাগার থেকে মুক্তির খবর আচমকাই জানতে পারেন তিনি। তিনি বলেন, “মঙ্গলবার ভোর ৬.৩০টার দিকে জেলের উপপরিদর্শক আমার কাছে এসে বললেন, ‘আপনি তৈরি হন। আপনার মুক্তি হলো আজ। প্রস্তুত হওয়ার জন্য আধ ঘণ্টা সময় আছে।’ আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম এবং এক মুহূর্তও নষ্ট না করে তড়িঘড়ি জামা জুতা পরে নিলাম এবং গাড়িতে চেপে রওনা দিলাম।”

২০১২ সালে ফেসবুকের ওই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে প্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার হন আনসারি। পাকিস্তান তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনে। মঙ্গলবার তাকে ফেরত পাঠানো হয় এবং ওয়াঘা-আট্টারি সীমান্তে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।