🕓 সংবাদ শিরোনাম

খেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরবত্রিশালে সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুতে নিহতের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতমকলাপাড়ায় এক সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধারটাঙ্গাইলে কৃষক শুকুর মাহমুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার-১

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

অন্য কিছু বলেছিলাম, কিন্তু ব্লাউজকে ইস্যু বানানো হলো: অঞ্জনা


❏ সোমবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- টিভি টকশোতে ‘ব্লাউজের’ সঙ্গে উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকাই ছবির নায়িকা অঞ্জনা। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অঞ্জনা। তিনি বলেছেন, টকশোতে বলতে গিয়ে আমি বাক্যটা শেষ করতে পারেনি। এ জন্য কারো যদি বুঝতে অসুবিধা হয়, তার জন্য আমি দুঃখিত।

এর আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে উপস্থিত হয়ে অঞ্জনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও সক্ষমতার প্রসঙ্গে ব্লাউজ নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। এটি খুব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল আকারে ভাইরাল হয়ে যায়।

নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত অঞ্জনার দৃষ্টি এড়ায়নি এসব ট্রল। পরে তিনি এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমের কাছে।

এই চলচ্চিত্র শিল্পী বলেন, ‘আমি এই কথা বলিনি যে সারাদেশের নারীদের ব্লাউজ আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। আমি অন্য কিছু বলেছিলাম। কিন্তু সেই বিষয়টাকে এড়িয়ে ব্লাউজকে জাতীয় ইস্যু বানানো হলো।’

অঞ্জনা বলেন, ‘আমি মনে করি, যারা এমনটা করলেন তাদের মানসিকতায় সমস্যা আছে। আমাকে হাসির পাত্রী বানানোর একটা অপচেষ্টা হয়েছে। কিছু মানুষ থাকেই যারা অন্যের অসম্মান করতে পারলে আনন্দ পান। কিন্তু ব্লাউজ নিয়ে ট্রল করে কি দেশের নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে না?’

বিশিষ্ট এই অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘অনেক নারীদেরকেও দেখছি ট্রলে মেতেছেন! তারা কী করে এমনটা পারেন?’

অঞ্জনা আজ সোমবার বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছিলাম, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গ্রামীণ যে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে তার কথা। আজ থেকে ৩০-৩৫ বছর এগে যখন আমরা গ্রামে গঞ্জে শুটিংয়ে যেতাম দেখতাম নিম্নবিত্ত নারীরা একটা শাড়ি প্যাঁচিয়ে শুটিং দেখতে আসছেন। তাদের শরীরে কোনো ব্লাউজ ছিলো না। শুটিং ইউনিটের সবাই তাদের দেখে বিব্রত হতো। জিজ্ঞেস করতাম, তারা কেন ব্লাউজ পরে না তারা। জবাব দিতো, ‘অর্থের অভাবে ব্লাউজ কেনার সামর্থ হয় না। বহু কষ্টে একটা শাড়ি জুটে।’

‘সেইসব অঞ্চলে এখন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। গ্রামের নারীরা এখন ব্লাউজ পরছে, ম্যাক্সিও পরছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এসেছে। সেখানকার মানুষ এখন নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে। তাই নারীরাও নিজেদের জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। এটা গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের স্রোতেই হয়েছে। এটাই বলতে চেয়েছি,’ বলেন অঞ্জনা।

‘হয়তো ওই টকশোতে সময়ের অভাবে কিছু কথা খুব সংক্ষিপ্ত বলেছি। কিন্তু কী বলতে চেয়েছি সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করে ব্লাউজ নিয়ে ট্রল করা শুরু করেছেন। উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার উন্নয়নকে পাশ কাটানো।’

টকশোর ওই ভিডিও সম্পর্কে অঞ্জনা বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। সেটি কিছু অংশ কেটে ট্রল করা হচ্ছে। আমি কী বলতে চেয়েছি তা বুঝতে সক্ষম হয়নি অনেকেই। অনুষ্ঠানে আমার পাশে পোশাক শিল্পের একজন ব্যক্তি ছিলেন। সেখানে পোশাক শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কথা হচ্ছিলো। সঙ্গত কারণেই আমি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পোশাকতে উদাহরণ হিসেবে টেনেছি। আগের তুলনায় বর্তমানে পোশাকের সহজলভ্যতা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। যা আমার নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে বলা ‘

‘এই দেশে কোনোকিছু নিয়ে কথা বলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। মূল বিষয়কে এড়িয়ে খুব হালকা কিছু নিয়ে মেতে উঠে সবাই। অথচ এই দেশের মানুষই উঠতে বসতে বলে যে এখানে নাকি কথার স্বাধীনতা নেই,’ যোগ করেন অঞ্জনা।

‘আমার মনে হয় পৃথিবীতে আর কোনো দেশে মানুষকে অপমান করে এত উল্লাস করে না কেউ। এখানে একজন মানুষের বয়স, শিক্ষা, রুচিবোধ, অভিজ্ঞতা, সুনামকে কেউ গুরুত্ব দেয় না। ইস্যু একটা হলেই হলো।’

অঞ্জনা দু'বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। অঞ্জনা ১৯৭৬ সালে শামসুদ্দীন টগর পরিচালিত 'দস্যু বনহুর' সিনেমার মাধ্যমে অঞ্জনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আসেন। তিনি প্রায় ১০০টির কাছাকাছি ছবিতে অভিনয় করেছেন।