• আজ শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৫ মে, ২০২১ ৷

ঢাকা-১: গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তদের সশস্ত্র হামলা, গাড়ি ভাঙচুর


❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর- ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থানরত হোটেলে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা এলাকার ‘শামীম গেস্ট হাউজে’ এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে ১৮টি গাড়ি ও হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন যুগান্তরের সাংবাদিক শামীম খান। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে গেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিকরা।

সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখে গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় স্থানীয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ন্যক্কারজনক এ ঘটনা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে থানা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেননি।

অথচ থানার কাছেই এ গেস্ট হাউস অবস্থিত। তবে এক ঘণ্টা পরে পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। ওই সময় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনী জনসভা ও নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা, ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত নবাবগঞ্জ ও দোহারের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। গেস্ট হাউসে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে নবাবগঞ্জে অবস্থানরত যমুনা টিভির সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা বলেন, অতর্কিত ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের হোটেলে হামলা চালায়।

আমরা থানা নির্বাহী অফিসার এবং ওসিকে জানালেও কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। গণমাধ্যমকর্মীরাই যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে এখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়?

হামলার ঘটনায় যুগান্তরের বিশেষ প্রতিবেদক মিজান মালিক জানান, হামলাকারীরা ১৩ থেকে ১৪টি কক্ষে ভাংচুর করেছে। এ সময় তাদের হাতে ছিল রামদা, হকিস্টিক ও স্টিলের লাঠিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

হামলাকারীরা কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে হামলা চালায়। তারা মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারসহ প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি বিভিন্ন মডেলের গাড়ি ভাংচুর করে। ওই হোটেলে যুগান্তর ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৪০ থেকে ৪৫ জন সাংবাদিক ছিলেন।