নোয়াখালী-৪ বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের খোলা চিঠি


❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮ জাতীয়, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর,স্টাফ রিপোর্টার:

সন্মানিত সুধী,
আপনারা আমার বিনীত সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। সময়ের স্বল্পতা ও প্রতিকূল পরিস্হিতির কারণে ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের সাথে সাক্ষাত করে দোয়া প্রার্থনা করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সুবর্ণচর তথা এই জনপদের সাথে আমার নাড়ির সম্পর্ক সেই ’৭০ এর ১২ নভেম্বর ঘটে যাওয়া প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকেই।

পরবর্তীতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সুধারাম তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের কাছে এক বৃহৎ নিরাপদ আবাসভূমি হিসাবেও এই জনপদ পরিচিতি লাভ করে। ’৭৫ এ আমার গ্রাজুয়েশন শেষ হলে চট্রগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মতো বিদ্যাপীটের সার্টিফিকেট সাকা সত্ত্বেও কোন উচ্চ বিলাসী চাকুরী বা বাসনা আমার মনকে নাড়া দিতে পারেনি ।

’৭০ এর বন্যা ও ’৭১ এর যুদ্ধের মতো মানবিক বিপর্যয় পরিলক্ষিত করার পর প্রকৃতপক্ষে নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারিনি। স্বপ্ন দেখতে থাকি নিজের প্রান্তিক মানুষের জন্য কিছু করা, বিশাল সম্ভাবনাময়ী প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধশালী এই জনপদেও সাথে নিজেকে মিশিয়ে জীবন যুদ্ধ অবনিত হওয়ার। ছাত্র রাজনীতি করতাম বলে, আমার রাজনৈতিক নেশার কথা জানতে পেরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব আমাকে অনুপ্রাণিত করেন জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্ধৃত হয়ে নিজেকে দেশ সেবায় নিয়োজিত করার জন্য। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখায় ও আমার দেশ সেবায় প্রতিজ্ঞার প্রতি আস্হা দেখে আপনাদের দোয়ায় এ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ’৯১ এর নির্বাচনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে মনোনিত করেন।

আমি যখন দলের মনোনিত হয়ে এ জনপদে আপনাদরে দ্বারে আসি তখন এই জনপদের মানুষ অভাবের সাথে যুদ্ধ করে চলছে প্রতিনিয়ত। শ্রমজীবী মানুষ কখনো উপোষ থেকে, কখনো অর্ধাহারে অনাহারে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঝড়,বন্য,খরার মত দুর্যোগ এর ফলে ৮৫% কৃষকের এই জনপদের কারোরই আশাতীত ফসলের অর্ধেকও ঘরে তোলা সম্ভব ছিলো না। কেউ ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে, কেউ কোন রকমে কেউবা নিজের সামান্য সহায় সম্পত্তি নিয়ে খুবই সাধারণ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলো নিজের জীবন। আমার নিকট সবার প্রধান দাবি ছিলো নির্বাচিত হলে খাল খনন ও সংস্কার, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, চিকিৎসা ও শিক্ষার নুন্যতম সুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রিয় সুবর্ণচরবাসী,
আপনারা কথা রেখেছেন। আপনাদেরই সন্তান হিসাবে আমাকে গ্রহণ করে একবার,দুইবার নয় চার-চার বার ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত করেছেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে ১,১২,০৯৫ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন (যা ছিল মোট প্রদত্ত ভোটের ৫৫.৫২ শতাংশ)। ২০০৮ সালে আমি সামান্য ভোটে হেরে গেলেও আমার সুবর্নচরবাসী আমাকে অতীতের চেয়ে অধিকতর ভোট প্রদান করে আমাকে চীর ঋণী করেছেন।

আমি জানি না আপনাদের দেওয়া আমানতের কতটুকু আমি রক্ষা করতে পেরেছি। কতটুকু সফল আমি। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, এই জনপদের স্বার্থের সাথে আমি বৈইমানি করিনি। ধ্বংসের মুখে পতিত করি নাই যুব সমাজকে, আপোষ করি নাই মাদক-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী ও বেয়াদবি কার্যক্রমের সাথে। সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে থানা থেকে খারাপ রিপোর্ট দিয়ে হাজারো বেকারের ক্ষতি করি নাই।

অস্বস্তিকর পরিস্হিতির মুখে পতিত করিনি এলাকার মুরব্বীদের,প্রশ্রয় দেয় নাই নিজ কর্মীদের, কোন প্রকার খারাপ রিপোর্ট আসার সাথে সাথে শাস্তি দিয়েছি ডেকে এনে। আমি হয়তো নগদ টাকা ছিটিয়ে মানুষের মনকে ধোঁয়াশে করে, হক নষ্ট করে নিজের সম্পত্তি ১৫০ গুণ বৃদ্ধি করিনি কিন্তু যতটুকু পেরেছি নিজের সাধ্যমতো আপনাদের আমানতের সদ্বব্যবহার করার জন্য সচেষ্ট ছিলাম। চার-চার বার এমপি হওয়া সত্বেও পালন করিনি কোন ক্যাডার বাহিনী, অপরাজনীতির তরে ছাত্র/যুব সমাজকে লিলিয়ে দেইনি। কারণ, আমি সর্বদা নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ ছিলাম, আমি আমার সুবর্ণ পরিবারকে ধ্বংসের মুখে পতিত করতে পারি না।

প্রিয় সুবর্ণচরবাসী,

আমার আর তেমন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই কিন্তু দায়িত্ববোধ আমার পিঁছু ছাড়ছে না। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে পুরো সুবর্ণচরের চিত্রটা একবার স্মরণ করার চেষ্টা করি কিন্তু ?ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না এই ভেবে স্বপ্নিল এই প্রান্তরের কেন আজ এই পরিণতি, কেনইবা নিজের অধিকারের কাছে হেরে যাবে মানুষগুলো?
আমার সময়ে সুবর্ণচরের মূল সড়কগুলো যথা সোনাপুর-ষ্টিমারঘাট এর ৩৭ কিঃমিঃ সড়ক,সোনাপুর-চরজ¦¦ব্বর সড়ক, সোনাপুর-চরক্লার্ক ৩১ কিঃমি সড়ক, সোনাপুর-ছেঁওয়াখালী সড়ক, খাসেরহাট রাস্তার মাথা- আক্তার মিয়ার হাট সড়ক সহ অসংখ্য মোট ৭৫ কিঃমিঃ পাকা সড়ক নির্মাণ, বেড়িবাঁধ তৈরী ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প, খালগুলো খনন ও প্রশস্তকরণ করি।

সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসাবে সর্বমোট ২০ কিঃমি রা¯তায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী নিশ্চিতকরণ, হাবিবিয়া রেঞ্জে ১৪০০ টি ওষধী বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করি। আমার সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে সৈকত ডিগ্রী কলেজ, চরজব্বর ডিগ্রী কলেজ, পূর্ব চরবাটা স্কুল এন্ড কলেজ সহ, জুবলী হাবিব উল্লাহ মিয়ার হাট উঃ বিঃ, লর্ড লিউনার্ড চেশায়ার উঃবিঃ, কেরামতপুর এম এস উঃবিঃ, চরবাটা বালিকা উঃবিঃ, চর আমান উল্লাহ উঃবিঃ, ছমিরহাট বালিকা উঃবিঃ, হাজী মোশাররফ হোসেন জুনিঃ স্কুল, পূর্ব চরবাটা হাই স্কুল, আবদুল্লাহ মিয়ার হাট জুনিঃ বিঃ, চরবাটা সওদাগরহাট নিম্ন মাঃবিঃ, থানার হাটা মডেল নিঃমাঃবিঃ, আনোয়ার মির্জা জুঃবিঃ, পাংখার বাজার জুঃবিঃ, হারুন-অর রশিদ জুঃবিঃ,জনতাবাজার-জাহাজমারা,সমিতিবাজার-চরহাসান দাখিল মাদ্রাসা সহ প্রায় ৬০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।

১৯৯১-২০০৬ পর্যন্ত সময়ে চরজব্বরে ৫৬ টি, চরবাটা ও পূর্ব-চরবাটার ৪২ টি, চরক্লার্কে ৪৫ টি চর ওয়াপদায় ৩৩ টি, চরজুবলীতে ৪৩ টি, চর আমান উল্লাহতে ২২ টি সর্বমোট ২৪১ টি মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম হাতে গ্রহণ করি। স্বা¯হ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিনিউটি ক্লিনিক প্রকল্প হাতে নেওয়া, ১০০% স্যানিটেশন কার্যক্রম নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১২০০ গভীর টিউবওয়েল স্থাপন, ভূমিহীনদের আবাসনের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ, ৩৫ টি হাট বাজারের নানাবিধ উন্নয়ন, ৫৮ টি সাইক্লোন সেন্টারের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ, ৫০ বর্গ কিঃমিঃ উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অসংখ্য প্রকল্প হাতে নেওয়া, ২০,৯৪৭ একর খাস জমির অবৈধ হস্তক্ষেপ রোধে সচেষ্ট থাকি। কিন্ত নোয়াখালীর সুন্দরবন খ্যাত ম্যানগ্রোভ বন আর খাস জমি দখলের রাজত্ব এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহলের মাঝে দেখা যায়।

তারা ভূমি দস্যু/জল দস্যু দিয়ে মানুষকে হাঁপিয়ে তুললে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট আমি বিষয়টা দাবি জানায় এবং তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্ব প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে তৎকালীন ডিসি মোস্তফা কামাল হায়দার, এস.পি মেসবাহুন্নবী ও আপনাদেরকে সাথে নিয়ে জীবন বাজি রেখে ২০০৩ সালেরৈ ০৬ ডিসেম্বরিআমি স্বশরীরে দুর্গম বাগানে অভিযান পরিচালনা করি এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সফল হই। আমার সবচেয়ে ভালো লাগা হলো শেষ সময়ে আপনাদের অর্পিত দায়িত্ববোধ থেকেই আমি সুবর্ণচর উপজেলা এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বঃ ¯হাপন করি।

প্রিয় সুবর্ণচরবাসী,

২০০৬ এর পরের ইতিহাস দৃশ্যমান। তুলনার দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে ছেড়ে দিলাম কিন্ত এভাবে আর কতো? আমাদের সুবর্ণচরে কি এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, সোনাপুর-ষ্টিমারঘাট রেল কার্যক্রম বাস্তবায়ন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠা, অন্তত ৫/১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা কিংবা উন্নতমানের স্হাস্হ্য সেবার আওতায় আসার অধিকার রাখেনি??।

কথা না বাড়িয়ে বরং আমি কথা দিচ্ছি, এইসব কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামীতে আমার সুবর্ণচরের বেকার যুবকদের ইউনিয়ন ভিত্তিক তালিকা তৈরী করে তাদের কর্মসংস্থানের প্রকল্প হাতে নেওয়া, সুবর্ণচরে অবস্হিত বেসরকারি প্রকিষ্ঠান/মৎস খামার/এনজিও গুলোতে সুবর্ণচরের বেকারদের চাকুরীর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিতকরণ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি প্রণয়ন, চরজব্বর হসপিটালকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, পরিকল্পিত ক্রিড়াঙ্গন তৈরী, মসজিদ-মন্দির ভিত্তিক সচেতনামূলক পোগ্রাম প্রণয়ন, মাদক-চাঁদাবাজমুক্ত সুবর্ণচর নিশ্চিতকরণেল লক্ষ্যে জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহণ, সুবর্ণচরকে পর্যটনমুখী করার স্বার্থে উন্নয়নমুখী প্রকল্প গ্রহণ, পরিত্যক্ত ও বেদখলকৃত সরকারি ভূমি উদ্ধার ও সংরক্ষণ, ভূমিহীন পরিবারের আবাসান প্রকল্প বাস্তবায়ন, মুরব্বী ও সুশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক সার্বিক তদারকি কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহন চালুকরণ, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তারে বিশেষ নজর প্রদান, সকল দল-মত-নির্বষেশে সবার সহব¯হান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিশেষ নজর প্রদান, ঢাকা-চট্রগ্রাম রুটে ভালো যাত্রীবাহী বাসের ব্যবহার, সুবর্ণচর/নোয়াখালী বিমান বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে শেষ করা, ইয়ুথ পার্লামেন্ট গঠন করা, উচ্চ শিক্ষার প্রসারে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল লাইব্রেরী-ল্যাব ও সার্বাধুনিক তথ্য ভিত্তিক সমৃদ্ধ কেন্দ্র তৈরী করা, ছাত্রী ও মা-বোন দের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারুণ্য ভিত্তিক আধুনিক সুবর্ণচর গড়ার লক্ষ্যে সচেষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ সহ আপনাদের সার্বিক সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক- গণতান্ত্রিক-নাগরিক ও সাংস্কৃতির অধিকার নিয়ে আমি কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আমি স্বাপ্নিক মানুষ। মানুষের সেবার স্বার্থে রাজনীতি ব্যাতীত আমার কোনন উচ্চ বিলাসিতা নাই। আমি আপনাদের সন্তান মোহাম্মদ শাহজাহান আপনাদের অন্তত এই কথা দিতে পারি আগামীতে সরকার গ?ন হলে এই সুবর্ণচর বাসীকে আমি অতিরিক্ত কিছু দিতে পারবো। নিজ দলের কাছে এমন দাবি করার অব¯হান আল্লাহ আমার করে দিয়েছেন।

প্রিয় সুবর্ণচরবাসী,

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে রক্তের দামে কেনা আমাদের এই পবিত্র ভূমি। আমাদের দীর্ঘ দিনের কাঙ্খিত স্বাধীনতার তরে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন ৩০ লক্ষ শহীদ, ইজ্জত হারিয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ মা-বোন।

আর এই মহান ত্যাগের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জাতি গঠনের নিমিত্তে সংবিধানে বিধিবদ্ধ হয় রাষ্ট্র পরিচালনার ৪ টি মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার বিষয়। জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতির অধিকার নিয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী প্ররেণায় উজ্জবীত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা থাকিলেও আজো এক গভীর অন্ধকারের পথে জাতিকে নিমজ্জিত করা হচ্ছে। দেশ আজেএক মানবিক পরিস্হিতির সম্মুখীন ।

২০০৯-২০১৮ এই এক দশকে দেশ উপনীত হয়েছে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যব¯হা, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড, গুম, কারাগারে হত্যা, সীমান্তে খুন,সাংবাদিক নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতা, ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, টাকা পাচার, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট, কোটি কোটি শিক্ষিত যুবককে বেকার হিসাবে বসিয়ে রাখার এক জীবন্ত কারখানায় উপনিত, শিক্ষা ব্যবস্হার পঙ্গুত্বকরণ, প্রতিটি গ্রামে মাদকের আখড়া তৈরী করণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুটপাট সহ লক্ষ ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার পরও তারা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আবারো ক্ষমতায় থাকার জন্য যখন উঠে পড়ে লেগেছে তখনই জাতীয় এক্যপ্রক্রিয়ার সৃষ্টি এবং জাতীয় এক্যপ্রক্রিয়ার একজন প্রার্থী হিসাবে আমি আপনাদের দোয়া প্রার্থী।

প্রিয় সুবর্ণচরবাসী,

শহীদ জিয়ার শাহাদাৎতের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো জাতি নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়ে এবং স্বৈরশাসক এরশাদ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সুশাসনের টুটি চেপে ধরলে জাতি যখন দিশেহারা তখন হাল ধরেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যুবতী বয়সে স্বামীকে হারিয়ে দুইটি মাছুম বাচ্চা ঘরে থাকাসত্বেও জীবনবাজি রেখে রাজপথে আন্দোলণ করে ’৯০ এ ফিরিয়ে আনেন গণতন্ত্র।

আর যার বিনিময়ে গত দশ বছরে তাঁকে ঘর ছাড়া করা হয়েছে, নির্যাতন করে তার ভাই ও ছোট ছেলেকে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে, নিজ পরিবার পরিজনের সম্পূর্ন বাহিরে থেকেও একাকীর মাঝেও তিনি আপোষহীন গণতন্ত্রের স্বার্থে। ৭৫ বৎসর বয়সেও গত প্রায় ১ বৎসর যাবত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অনড় রয়েছেন সুশাসনের জন্য। শুধু দেশের স্বার্থেই পরিহার করেছেন সকল প্রকার আন্দোলন কর্মসূচি। এমটি শুধু বেগম জিয়ার নয়, আজ বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিবারের চিত্র।

১৬ কোটি মানুষ এখন প্রাণ খুলে একটু নিশ্বাস নিতে পারলেই যেন বাঁচে। আর এই বাঁচার জন্যই, দেশকে রক্ষার জন্যই, উন্নয়নধর্মী ও সৌহার্দসুপূর্ণ গণতান্ত্রিক সুর্ণচরের জন্য আপনাদের একটু সহযোগিতা, একটু সহানুূতি, একটু হ্নদয়সিক্ত ভালোবাসা প্রার্থী। আসুন আমরা এগিয়ে চলি পরিবর্তনের পথে, সমৃদ্ধির তরে। সুবর্ণ আলোয় আলোকিত হোক বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

(মোহাম্দ শাহজাহান)
নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনে বিএনপি প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান(বিএনপি)