• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে ৮৪২৮ শিশুর জন্ম!


❏ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১, ২০১৯ আলোচিত

নতুন বছরের প্রথম দিনেই বাংলাদেশে অন্তত ৮৪২৮ শিশুর জন্ম হবে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সারাবিশ্বে আজ যে পরিমাণ শিশুর জন্ম হবে তার মধ্যে ২.১৩ শতাংশের জন্ম হবে বাংলাদেশে। নতুন বছরের এই দিনে সারাবিশ্বে অন্তত ৩৯৫,০৭২ শিশু জন্ম নেবে।

সারাবিশ্বের বিভিন্ন শহরে হুল্লোরকারীরা শুধু নতুন বছরকেই অনেক অনেক আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানাবে না বরং তাদের শহরের সবচেয়ে নতুন ও সবছেয়ে ছোট বাসিন্দাদেরও স্বাগত জানাবে তারা।

২০১৯ সালের প্রথম শিশুটির দেখা পেয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশ ফিজি। ইউনিসেফের হিসাবে, প্রথম দিনে জন্ম নেয়া শিশুদের এক চতুর্থাংশের জন্ম হবে দক্ষিণ এশিয়ায়। আর এদিনের মোট শিশুদের অর্ধেক জন্ম নেবে নীচের আটটি দেশে:

ভারত- ৬৯,৯৪৪, চীন- ৪৪,৯৪০, নাইজেরিয়া- ২৫৬৮৫, পাকিস্তান- ১৫১১২, ইন্দোনেশিয়া- ১৩২৫৬, যুক্তরাষ্ট্র- ১১০৮৬, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো- ১০,০৫৩ ও বাংলাদেশ- ৮৪২৮।

এই শিশুদের অনেকের নানারকম নাম দেওয়া হবে আবার অনেকে হয়তো নাম পাওয়ার আগেই মারা যেতে পারে।

২০১৭ সালের দিকে তাকালে দেখা যায়, অন্তত ১ মিলিয়ন শিশু জন্মের দিনই মৃত্যুবরণ করে। ২.৫ মিলিয়ন শিশু প্রাণ হারায় তাদের জন্মের মাসেই। তাদের বেশিরভাগই প্রতিরোধ করা যায় এমন সব কারণে প্রাণ হারায়, যেমন অপরিণত বয়সে জন্ম, জন্মদানের সময়ের জটিলতা, পচন বা নিউমোনিয়ার মতো ইনফেকশন। এসবই টিকে থাকার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলছেন, বিষয়টি এমন না যে, জানুয়ারির এক তারিখে বেশিরভাগ শিশুর জন্ম হচ্ছে। আসলে এখনো আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিশুদের জন্ম হয় বাড়ীতে, বিশেষ করে যারা গ্রামীণ এলাকায় থাকে। সেখানে এখনো শিক্ষার হারটা ততটা ভালো না। ফলে অভিভাবকরাও জন্ম নিবন্ধনের ব্যাপারে ততটা সতর্ক নন। আবার আমাদের জন্ম নিবন্ধনও সঠিকভাবে সঠিক তারিখে হয়না। বাড়িতে বা হাসপাতালে জন্ম নেয়া শিশুদেরও ঠিকভাবে নিবন্ধন হচ্ছে না। পরবর্তী একসময় যখন তারা স্কুলে ভর্তি হয় বা কোন সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় তার জন্ম তারিখটা দরকার হয়ে পড়ে। তখন অনেক সময় স্কুলের শিক্ষকরা ইচ্ছেমত একটি তারিখ বসিয়ে দেন। নতুন করে জন্মদিন বসাতে গিয়ে তারা একটি কমন তারিখে জন্মদিন বসিয়ে দেন, যা সহজে মনে রাখা যায়। দেখা যায়, বেশিরভাগ সময়েই সেটা জানুয়ারির এক তারিখ হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, এ কারণে দেখা যায় এখানে এটা খুবই কমন যে, বেশিরভাগ মানুষের দুইটা করে জন্মদিন থাকে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় তৌফিক রহমানের (ছদ্মনাম) সঙ্গে, যার নিজের এবং আরো দুজন চাচাতো ভাইয়ের জন্ম তারিখ ১লা জানুয়ারি।

তিনি বলছেন, অনেকগুলো ভাইবোনের পরিবারে কারো জন্মতারিখই বাবা-মা লিখে রাখেননি। ফলে স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকরা তারিখটি বসিয়ে দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানেও এই প্রবণতা রয়েছে।

তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলছেন, অনেকের জন্মতারিখ বানিয়ে দেয়া হলেও, এই তারিখেও কিন্তু সত্যিকারে বাংলাদেশে অনেক শিশুর জন্ম হচ্ছে, যাদের জন্মদিন আসলেই ১লা জানুয়ারি।