মোবাইল আসক্তি ছাড়াতে কেরোসিন ঢেলে কিশোরী মেয়ের গায়ে আগুন দিল বাবা!

❏ বুধবার, জানুয়ারী ২, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ের সাথে সাথে মোবাইলের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে আমাদের যাপনের সঙ্গে। এবং স্বাভাবিকভাবেই কৈশোর থেকে যৌবনের কালপর্বে মোবাইলের প্রতি আসক্তি অতি মাত্রায় বেশি।

সন্তানদের বাবা মায়েরা ছেলেমেয়ের মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমাতে কি না করেন! স্ক্রিন প্যাটার্ন হোক, বা পাসওয়ার্ড কিংবা হাতের আঙুলের ছাপ দিয়ে ফোন লক করে নিজেদের খুদেগুলিকে ফোনের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে চান দূরে। কিন্তু খুদেরা এখন এতটাই স্মার্ট যে এতসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেও তারা ঠিক ফোনটি ব্যবহার করে। ফলত প্রায়শই খেতে হয় বাবা মায়ের ধমক।

এতদূর পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু রাগের মাথায় শাসনের মাত্রা ছাড়িয়ে একটি মারাত্মক হিংসামুলক কাজের পরিচয় দিলেন ভারতের মুম্বইয়ের পালঘর জেলার এক বাবা। মোবাইলের নেশা ঘোচাতে যে শাস্তি দিলেন মেয়েকে তা জানলে শিউরে উঠবেন যে কেউ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেকদিন ধরেই মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল বছর ষোলোর কিশোরী মেয়েটি। প্রায় সবসময়ই মগ্ন–মোবাইল হয়ে থাকত। এই নিয়ে বহু বার কথা কাটাকাটিও হয় বাবা ও মেয়ের। কিন্তু বারবার বারণ করা সত্ত্বেও মোবাইল আসক্তি কমেনি মেয়ের।

মোবাইল ঘাঁটা নিয়ে গত সোমবার আবারও ঝগড়া বাধে মেয়ে ও বাবার মধ্যে। কিন্তু মেয়ে কোনও মতেই মোবাইল ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় রেগে গিয়ে মেয়ের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেয় বাবা। তারপর ধরিয়ে দেয় আগুন। জ্বলন্ত মেয়েকে বাড়িতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে। ঘটনার সময় বাড়িতে তারা দুজন ছাড়া আর কেউই উপস্থিত ছিল না।

পরে পাড়া প্রতিবেশীরা দগ্ধ মেয়েটিকে মুম্বইয়ের জে জে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিত্‍সকেরা জানিয়েছেন যে মেয়েটির শরীরের প্রায় ৭০ % দগ্ধ হয়ে গেছে। তার অবস্থা রীতিমতো সংকটজনক।

হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সেই অগ্নিদগ্ধ কিশোরী। মেয়েটির বাবা, অভিযুক্ত মহম্মদ মনসুরিকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।