🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১২ মে, ২০২১ ৷

ভিডিও ফাঁস: খাশোগির দেহাবশেষ ইস্তাম্বুলের সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে

❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগির দেহাবশেষ সুটকেস ও ব্যাগে ভরে ইস্তাম্বুলের সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তুরস্কের একটি টেলিভিশন। এমন দাবির স্বপক্ষে এ সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যমটি।

সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রকাশিত ভিডিওতে তিন ব্যক্তিকে সুটকেস ও ব্যাগ বহন করে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে। অপরদিকে তুর্কি সংবাদপত্র হুররিয়াত ডেইলির দাবি, নিহত খাশোগির দেহাবশেষ বাগানের দেয়ালের নিচে পোঁতা রয়েছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদির কনস্যুলেট ভবনের কাছেই কনসাল জেনারেলের বাসভবন। নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র গত রোববার (২৯ ডিসেম্বর ২০১৮) প্রকাশ করে তুর্কি টেলিভিশন ‘এ হাবের’ দাবি করেছে, কনসাল জেনারেলের বাসভবনে যে তিন ব্যক্তিকে পাঁচটি সুটকেস ও তিনটি ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেখা গেছে তারা সাংবাদিক খাশোগির দেহাবশেষ বহন করেছে। সুটকেস ও ব্যাগগুলো প্রথমে সৌদির কনস্যুলেট ভবনের গ্যারেজ থেকে একটি মিনিবাসে তোলা হয়। তারপর অল্প দূরেই অবস্থিত কনসাল জেনারেলের বাসভবনে নিয়ে রাখা হয়। এদিকে তুর্কি সংবাদপত্র হুররিয়াত ডেইলি পরদিন সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সাংবাদিক জামাল খাশোগির দেহাবশেষ সৌদির কনসাল জেনারেলের বাসভবনের বাগানে থাকা একটি দেয়ালের নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ করেছেন তুর্কি তদন্তকারীরা। তবে অক্টোবরে (২০১৮) যখন তারা বাসভবনটি তল্লাশি করেন, তখন সেখান থেকে কোন কিছু পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২ অক্টোবর (২০১৮) দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন সৌদি সরকারের কট্টর সমালোচক ও মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগি। এরপর থেকে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের তদন্তকারীরা দাবি করেন, সৌদি আরব থেকে আগত ১৫ সদস্যের এক ঘাতক দল (কিলিং স্কোয়াড) কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তুর্কি আরব মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান তুরান কিসলাকসি একটি সূত্রের বরাতে দাবি করেন, খাশোগিকে হত্যা করে তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে। তবে রিয়াদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে গেছেন। পরে তারা দাবি করে, ঘাতক সদস্যদের সঙ্গে ‘হাতাহাতির’ একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়েছে। তার স্বজনরা মরদেহ ফেরত চাইলে সৌদি তা দিতে ব্যর্থ হয়।