• আজ বৃহস্পতিবার। ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:০১

সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ! শ্রীনগরে ফসলের মাঠ এখন সরিষা গ্রাম

⏱ | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৯ 📁 অর্থনীতি

মোঃ রুবের ইসলাম তাহমিদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ৬ ঋতুর দেশ। ২ ভাগ গ্রামবাংলার প্রকৃতি। গাছপালা ধ্বংস হচ্ছে, বন-জঙ্গল হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বদলে যাচ্ছে ছায়াঘেরা সবুজ প্রাকৃতি।

বসতির প্রয়োজনে কেটে ফেলা হচ্ছে ঝোপঝাড়। পরিবেশ বিপর্যয়ের এই ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম চাষাবাদ সরিষা ক্ষেত। এখন বর্তমান সময়ে শীত মৌসুম আয়োজন কেন্দ্র করেই। হলদে চাদরে ঢাকা, চোখ জুড়াবে মন মাতাবে সরিষা ক্ষেতের আভা। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কে.সি. রোড দিয়ে ১ কিলোঃ আগালেই পুর্ব দিকে চোখে পরে সরষে ফুলের মাঠ বা সরিষা গ্রাম। এ অঞ্চলের ফসলের মাঠগুলো এখন সরিষা হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে বিরাজ করছে গ্রামর পর গ্রাম। থোকা-থোকা হলুদ ফুলের দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সরিষা ফুলে আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতি প্রেমীদের। এই সময় মধু সংগ্রহের কাজে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।

মাঠে সরিষা হলুদ ফুলের মাঠ মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। মৌচাষিরা মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলিত মৌসুমে এ অঞ্চলে লাভ জনক মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যে দিকে দৃষ্টি যায় শুধু সবুজের ফাঁকে হলুদের সমাহার। রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠে সবুজের মাঝে চোখ ধাঁধাঁ নো হলুদ ফুল আর ফুল। ফুলের বিস্তীর্ণ মাঠ দূরন্ত শিশুরা মেতে উঠছে নানা রকমের খেলা ধুলায় ।

শ্রীনগর উপজেলা বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষার মাঠগুলোয় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ সময়টা পোকা-মাকরসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ায় কাক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে  বাড়তি পরিচর্যা করতে হচ্ছে কৃষকদের। শ্রীনগরে নিমতলী বাড়তি পরিচর্যা করতে হচ্ছে কৃষকদের।

শ্রীনগরে নিমতলী গ্রামের সরিষা চাষি মোঃ আঃ রউফ বলেন – শ্রীনগর একন সরিষা গ্রাম -এবার বন্যা না হওয়ার সরিষার আবাদ আরো বেশি হয়েছে। তাতে এবার আমাদের লাভের সম্ভাবনা।

সাতগাঁও গ্রামে ব্যবসায়ী মধু চাষি মতি মিয়া বলেন, এ বছর মধু সংগ্রহে ও চাষে আমরা লাভবান হবো। কারণ এ গ্রামে সরিষার আবাদ বেশি হওয়া লাভের অংশটা এবার একটু বেশি হবে। মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরিষার আবাদ দেখা যায় গতবারের চেয়ে তিনগুন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান জানায়, আমাদের কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যামে মধু চাষিদের এখানে এসে মধু চাষে মধু সংগ্রহের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার শান্তানা রানী বলেন, ‘মধু মধুই। ফুলের ওপর নির্ভর করে মধুর ভিন্নতা। সরিষার ফুল থেকে যে মধু পাওয়া তার দাম একটু কম। সুন্দরবনের মধুর দাম একটু বেশি। শ্রীনগরে প্রতিবছর যে পরিমাণ সরিষার আবাদ হয় তাতে অর্থনৈতিক দিক থেকে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছরে এ উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

এখানে প্রতি বছর যে পরিমাণ সরিষা আবাদ হয় তাতে মধু চাষে অর্থনেতিক দিক থেকে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে তার তিন গুন। আমরা এই সম্ভাবনাটিকে কাজে লাগানোর জন্য খামারি ও সরিষা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং সরিষা ক্ষেতে কোনো প্রকার পয়জন জাতীয় স্প্রে করতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে মৌমাছির কোনো ক্ষতি না হয়।