সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

১২:০৬ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জানুয়ারী ৪, ২০১৯ বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনে নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে কমান্ডারদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউনিয়ন কমান্ডার ও নারী নেত্রীকে নির্বাচনের আগে নাম দেওয়ার সময় পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এখন  ভাতা নেওয়ার সময় আবার ১শ’ টাকা করে দিতে হচ্ছে কমান্ডারের নামে।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১শ’৮ টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনের দিন মোট ১ হাজার ২শ’৯৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এদের মধ্যে ১শ’৮ জন দলনেতা ও ১শ ’৮ জন সহকারী দলনেতা। দলনেতা ও সহকারী দলনেতারা প্রত্যেকে ৫ হাজার ৭শ’ টাকা করে পাবেন । অন্য সদস্যদের প্রত্যেকে  পাবেন ৪ হাজার ৫শ’৫৭ টাকা। বৃহস্পতিবার তাদেরকে ওই টাকা দেওয়া হয়।

৬১ নং ভোট কেন্দ্র ঢালী আছিয়া খাতুন মাদরাসায় দায়িত্ব পালন করা মোসাম্মৎ পরী ভানু বলেন, নাম দেওয়ার সময় বগা ইউনিয়ন কমান্ডার আবদুস ছালামকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। আজকেও ১শ’টাকা দাবি করেছে। আর ১শ’ টাকা না দিলে তিনি টাকা পাবেন না এবং আর কোনো দিন তার নাম দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।

একই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা রাহিমা বেগম ও তার ছেলে বলেন, কমান্ডার আবদুস ছালামকে নাম দেওয়ার সময় ১ হাজার ৪শ’ টাকা দিয়েছেন।  এখন আরও ৪শ’ টাকা দাবি করছেন।

মো. মিলন বলেন, তিনিও ১ হাজার টাকা দিয়েছেন। এখন আবার ১শ’ টাকা দাবি করছেন কমান্ডার আবদুস ছালাম। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বগা ইউনিয়ন কমান্ডার আবদুস ছালাম।

৬২ নং ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা মো. সেন্টু হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, তারা এক সঙ্গে ১২ জন ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বগা গ্রামের আনসার ও ভিডিপির নারী নেত্রী মোসাম্মৎ সুমি বেগম ৫শ’থেকে ৮শ’টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। তিনি দিয়েছেন ৬শ’টাকা। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নারী নেত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, অফিস খরচ বাবদ টাকা নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ  না করার শর্তে এক কমান্ডার বলেন,‘নাম দেওয়ার সময় প্রত্যেক সদস্যদের কাছ থেকেই ৫শ’থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ওই টাকা শুধু কমান্ডার একা পাবেন না, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত সবাই পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, যারা টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করবেন পরবর্তীতে তাদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হবে এই ভয়ে কেউ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকারও করবেন না।’

বাউফল উপজেলা আনছার ও ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা ইসমেত আরা বেগম বলেন,‘কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ আর এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

৩৪ আনছার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও পটুয়াখালী জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,‘কোনো ভাবেই কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর ভাতা দেওয়ার সময়ও কারো কাছ থেকে টাকা রাখা হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, এ জাতীয় অভিযোগ আমাদের কাছেও আসে। কিন্তু জিজ্ঞেস করলে তখন কেউ স্বীকার করে না।