দৃশ্যমান হবে ‘স্বপ্নের’ ৯০০ মিটার! পদ্মা সেতুতে বসছে ষষ্ঠ এবং শেষ স্প্যান

৫:৪৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জানুয়ারী ৪, ২০১৯ ফিচার
padma-bridge-6th-span

সময়ের কণ্ঠস্বর- মাওয়া- আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বসানো হবে পদ্মা সেতুর ষষ্ঠ শেষ এবং শেষ স্প্যান। এরই মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৯০০ মিটার। স্প্যানটি শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা প্রান্তে বসানো হলে জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকে এটিই হবে শেষ স্প্যান বলে জানিয়েছেন, সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

এছাড়া মাওয়া প্রান্তে স্প্যান স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের সামনে ষষ্ঠ স্প্যানটি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর ৩৭ ও ৩৬ নম্বর পিলারের (খুঁটি) ওপর।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান এবং সবশেষ গত ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে।

এ স্প্যানগুলো বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়। ছয় মাস পর আরেকটি স্প্যান বসতে যাচ্ছে। ষষ্ঠ স্প্যান বসলে সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হবে। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আরও স্প্যান প্রস্তুত করার কাজ বেশ দ্রুত চলছে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আরও পাঁচটি স্প্যানের ৯০ শতাংশ প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এ মাসের মধ্যে এসব স্প্যান প্রস্তুত হয়ে যাবে। এই স্প্যানগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বসানো হবে। তবে আপাতত জাজিরা প্রান্ত থেকে স্প্যান বসানোর কাজ চলবে।

৬ ও ৭ নম্বর পিলার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার মাওয়া প্রান্তে স্প্যান আপাতত বসানো হচ্ছে না। এই দুটি পিলারের কাজ শেষ হলে মাওয়ায় স্প্যান বসানো শুরু হবে। তবে মাঝ নদীতে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলার দুটি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

এর আগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মূল সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৬৬ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভরা বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোত উপেক্ষা করেই উভয় প্রান্তে নির্মাণ কর্মযজ্ঞ চলছে। পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সেতুর প্রতিটি খুঁটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। ইতিমধ্যে ১২টি খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর পাঁচটি স্প্যান বসানো হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে এসব খুঁটির ওপরই এখন ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী জানান, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর প্রথম স্প্যান, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটির ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, গত ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর তৃতীয় স্প্যান এবং গত ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটির ওপর চতুর্থ স্প্যান স্থাপনে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। আর ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর পঞ্চম স্প্যানটি বসানোর পর পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মূল সেতুর ৭৫০ মিটার অবকাঠামো।

পদ্মা সেতুর এক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুতে সব মিলিয়ে ৪২টি খুঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান।

এর মধ্যে ৪০টি খুঁটি থাকবে পানিতে আর ডাঙায় দুটি খুঁটি। ডাঙায় থাকা দুটি খুঁটি সংযোগ সড়কের সঙ্গে মূল সেতুকে যুক্ত করবে। ছয়টি মডিউলে বিভক্ত থাকবে সেতু। মাওয়া প্রান্তে এক হাজার ৪৭৮ মিটার ভায়াডাক্ট (ঝুলন্ত পথ) থাকবে। জাজিরা প্রান্তে থাকবে এক হাজার ৬৭০ মিটার।

বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল তৈরির প্রক্রিয়া :

মূল সেতুর কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও চলমান রয়েছে। পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আগস্টের শেষে শিল্পী আবুল হাসিমের নেতৃত্বে একটি টিম প্রকল্প এলাকায় মুর‌্যাল নির্মাণস্থল ঘুরে দেখে গেছেন। সেতু চালু হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

৪টি খুঁটির নতুন ডিজাইন অনুমোদন : দায়িত্বশীল প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার তলদেশের গভীরে নরম মাটি থাকায় ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটির ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন ডিজাইনে এ ৪ খুঁটিতে ৭টি করে পাইল বসছে। অন্যান্য খুঁটির মতো রেকিং ছয়টি পাইল এবং মাঝে ভার্টিক্যাল অর্থাৎ সরাসরি সোজা আরও একটি অতিরিক্ত পাইল স্থাপন করা হচ্ছে। তবে দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১২৮ থেকে ১১৪ মিটার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব পাইলের নকশা অনুমোদন হয়ে গেছে।