‘শীত আইসে শীত যায় হামার খবর কাহো নেয় না’

◷ ২:৫৩ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৯ রংপুর

সময়ের কণ্ঠস্বর, নীলফামারী- উত্তরের জেলা নীলফামারীতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হাড় কাপানো কনকনে শীতে যবুথুবু হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু ও পাখিরাও হয়ে পড়েছে কাবু। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জেলার সবকটি হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের বেড়েছে ভীড়। তারা শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানান শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে পড়েছে।

নীলফামারী পৌর এলাকার চার নম্বর ওয়ার্ডের হরিদ্র আব্দুস সাত্তার বলেন, গতবারের শীতেও মুই একটা কম্বলও পাও নাই। কম্বলের জন্য কাউন্সিলরোক কয়েকদিন কছি, দিবারও চাছিল, কিন্তু পরে আর দেয় নাই। গতবারের চ্যায়া এবার শীতের জোরটা বেশী। এবারও কম্বল বোধহয় পাইম না।

সদর উপজেলার ইটাখোলা ডাকাইয়া পাড়ার কুলসুম বেগম আক্ষেপ করে বলেন, শীত আইসে শীত যায়। হামার খবর কাহো নেয় না। এক দুইটা কম্বলের জন্য কতজনের কাছোত যে ধর্না দিছু কিন্তু দিবার চ্যায়া কাহোয় দেয় নাই। ছাওয়া পােওয়া নিয়া খুব কষ্টে রাত কাটাইছি।

নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাশিক মেডিকেল অফিসার আসাদ আলম জানান, শীতজনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, একলামসিয়াসহ শীতজনিত অনেক রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে হাসপাতালের আউটডোরে শিশু রোগীর সংক্যা অনেক বেড়ে গেছে। আহত রোগীদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

ডিমলা আবহাওয়া দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, গত ১৫ডিসেম্বর থেকে ২১ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২দশমিক নয় ডিগ্রি, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩দশমিক তিন ডিগ্রি, ২২ডিসেম্বর থেকে ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নয় দশমিক আট ডিগ্রি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫দশমিক এক ডিগ্রি এবং এক জানুয়ারী থেকে পাঁচ জানুয়ারী পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল আট দশমিক দুই ডিগ্রি সর্বোচ্চ ছিল ২৫দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।