নতুন মন্ত্রী সভায়ও ঠাঁই পাচ্ছেন জাবেদ!

৪:৩৮ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৯ চট্টগ্রাম

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে মহাজোট। ইতিমধ্যে এমপিদের শপথ শেষে সংসদ নেতাও বানিয়েছেন নির্বাচিতরা। এবার মন্ত্রী সভার দিকে নজর ও সরকার গঠনের পালা।

এরই মধ্যে চর্তুদিকে নানা গল্প শোনা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে এবারের নতুন মন্ত্রী সভায় কারা থাকছেন এমন প্রশ্নে? তবে ঘুরে ফিরে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম-১৩ আসন হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারুণ্যের প্রতীক, ক্লিন ইমেজ ও গত মন্ত্রী সভার ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এর নাম।

শোনা যাচ্ছে, গতবারের মতো এবারও কোয়ালিশন বা জাতীয় সরকার হবে। বিরোধী দল থেকেও অনেকের ঠাঁই হবে মন্ত্রী সভায়। এতে যুক্ত হবে একাধিক নতুন মুখ। যদিও মন্ত্রী সভার বিষয়টি একেবারেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তিনিই পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্ত্রী সভা সাঁজাবেন।

সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী সভায় স্থান পেতে অনেকেই জোর লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাস ভবন- গণ ভবন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডির দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, প্রভাবশালী নেতাদের বাসায় মন্ত্রী পদপ্রত্যাশীদের আনাগোনা বেড়েছে। এদের মধ্যে নবনির্বাচিত এমপি, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা এবং বর্তমান মন্ত্রী সভার অনেকে আছেন।

কর্ণফুলী আনোয়ারা তথা চট্টগ্রামের জনগণ ইতিমধ্যে দাবি তুলেছে নতুন মন্ত্রী সভায়ও যেনো তাকে স্থান দিতে। তাছাড়া দলের আগামীর নেতৃত্ব সুদৃঢ় করতে অঞ্চল ভেদে পুনরায় নতুন মন্ত্রী সভায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এর নাম ঠাঁয় হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও নেতাদের মতে, এবার মন্ত্রী পরিষদে চট্টগ্রামের অবস্থান নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, এতে চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া-চকবাজার) আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক সিটি করপোরেশনের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে নির্বাচিত মহাজোটের অন্যতম শরীক দল জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নাম ও মন্ত্রী পরিষদে থাকতে পারে।

তবে সম্ভাবনার ক্ষেত্রে অন্যান্যদের থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার লাখ লাখ জনগণ এগিয়ে রাখছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে।

কেনোনা তিনি মন্ত্রী হয়ে শুধু বাড়ি ও গাড়ির সুযোগ-সুবিধা নয়, প্রতিমন্ত্রীর বেতনসহ প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার দেড় লাখ টাকাই তিনি বিভিন্ন জায়গায় ডোনেশন দিয়ে দেন।

সাইফুজ্জামান ছিলেন বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)-এর অন্যতম পরিচালক। মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর ইউসিবিএল-সহ তার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ইউসিবিএল-এর প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বড় ছেলে হলেন জাবেদ। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বারেরও সভাপতি ছিলেন।

নতুন মন্ত্রী সভায় পদ পেতে কতটা আশাবাদী এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এর ঘনিষ্টজন জানান, ‘সবকিছু নির্ভর করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। আমরা আনোয়ারা কর্ণফুলীর জনগণ বিপুল ভোটে ওনাকে বিজয়ী করেছি পুর্ণ মন্ত্রীত্বের স্বাদ পুরণের জন্য। আমাদের দোয়া বিফলে যাবেনা। আশা করি নেত্রীর সুনজর থাকবে জাবেদ সাহেবের উপর।’

আগামী ৭ জানুয়ারি সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রী সভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে সবই আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার ওপর নির্ভর বলে খবর প্রচার হচ্ছে।