কক্ষের অভাবে ব্যহত হচ্ছে আমিন উদ্দিন মহিলা মাদ্রাসার পাঠদান


এম এ সাইদ খোকন,বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামে ১৯৮৪ সালে গ্রামের সমাজ সেবক মো. আমিন উদ্দিন সিকদার স্থানীয়দের সহযোগিতায় নারী শিক্ষার  জন্য নিজের নামে একটি  দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে  ঘটখালী আমিন উদ্দিন মহিলা মাদ্রাসা প্রতিবছর ভাল ফলাফল করায় ১৯৮৭ সালে সরকার মাদ্রাসটি এমপিও ভূক্ত করেন। ১৯৮৭ সাল থেকে মাদ্রাসাটি বরগুনা জেলার ও আমতলী উপজেলার মধ্যে নারী শিক্ষার জন্য বেশ সুনাম অর্জন করছেন।মাদ্রাসাটি ২০১৮ সালে বরগুনা জেলার  শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের পদক অর্জন করেন। আমতলী-পটুয়াখালী  মহা সড়কের সিকদার বাড়ী বাসস্ট্যান্ডের  পশ্চিম   পাশে অবস্থিত মাদ্রাসাটিতে একটি পাকা ভবন রয়েছে । কক্ষ সংকটের কারণে দাখিল ও আলিম  পরীক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে  পালা বদল করে।

শিক্ষার্থীরা  বলেন , আমাদের কষ্টকি কোনদিন দুর হবেনা?  আমরা শ্রেনি কক্ষ ও বেঞ্চের অভাবে ক্লাশ করতে পারিনা।অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুস সালাম বলেন, একাডেমিক ভবনে তিনটি রুম রয়েছে। এক রুমে অধ্যক্ষও শিক্ষকরা, অপরকক্ষে  কম্পিউটার ল্যাব, তৃতীয় রুমে আলিম  প্রথম  বর্ষ ও ২য় বর্ষের ছাত্রীদের  পাঠদান করানো হয় ।  একাডেমিক ভবন ছাড়া  ৪টি টিনসেড ঘর রয়েছে । টিনের ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ ।

টিনসেড ঘরে  ক্লাশ নেওয়া যাচ্ছেনা, এর মধ্যেই আবাসিক ছাত্রীদের থাকতে হয়।  তারপর ও মাদ্রাসাটির  ফলাফলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গত বছর জেডিসি পরীক্ষায়  ৬৫ জন শিক্ষার্থী   পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ ও দাখিল পরীক্ষায় ৩৩ জন অংশগ্রহন করে শতভাগ পাশ। আলিম পরীক্ষায় ২২ জন অংশগ্রহন করে  তাও শতভাগ পাশ করেন।শুধু ২০১৮ সালেই নয় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই  উপজেলা ও জেলার মধ্যে ভাল ফলাফল করে আসছে।উপজেলার ৩৮ টি মাদ্রাসার মধ্যে ২০১৮ সালে বছরের শ্রেষ্ঠ উপজেলা ও জেলার পদক ছিনিয়ে এনেছে।  বর্তমানে ভালোফলাফল  অর্জনের জন্য  জেডিস , দাখিল , আলিম পরীক্ষার্থীদের  বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে।  ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে  বর্তমানে ৬৭৫ জন শিক্ষার্থীনী  অধ্যায়ন করছে। মাদ্রাসাটিতে ২৬ জন শিক্ষক কর্মচারী  ও ইবতেদায়ী ১ম শ্রেনী থেকে আলিম পর্যন্ত ৬৭৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন অধ্যায়ন করছেন। ২০০২ সালে আলীম শাখা অনুমোদন দেয় মাদ্রাসা বোর্ড। ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর ভাল ফলাফল করছে প্রতিষ্ঠানটি।  এর মধ্যে আলিম শাখার ৬ জন শিক্ষক এমপিও ভূক্ত হয়নি।  তারা বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।  এলাকার সাধারন জনগন এ মাদ্রাসাটিকে উপকূলের ইসলামী নারী শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপিট বলে থাকেন।

ঘটখালী আমিন উদ্দিন মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাও: মো. আব্দুস সালাম বলেন অনেক কষ্ট করে শিক্ষার্থীনীদের পাঠদান করাতে হয়। মাদ্রাসাটিতে ৩/৪ টি ভবন প্রয়োজন। তিনি আরো জানান,  আমতলী উপজেলার মধ্যে এ মাদ্রাসাটিতে  বিজ্ঞান শাখা চালু রয়েছে। তিনি আরো  বলেন নারী শিক্ষার জন্য মাদ্রাসটিতে ভবন নির্মানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আকমল হোসেন বলেন নারী শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।  মাদ্রাসাটিতে ভবনের খুব প্রয়োজন বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের অবহিত করেছি।

◷ ৬:১০ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৯ বরিশাল