সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রবিবার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় জানাজা

৬:৩২ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৯ আলোচিত

এ. এম. উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: না ফেরার দেশেই চলে গেলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় নামাজের জানাজা কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই আলোচনা সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন – অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার আক্তার জামীল, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বি পি এম, সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আই সি টি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আহমেদ উল্লাহ।

এর আগে গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেখানে জায়গা সংকুলান না হওয়ার শঙ্কায় স্থান পরিবর্তন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে আরও জানা যায়, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ রবিবার বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে ওইদিন সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ইদগাহ মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলীয় নেতারা তার মরদেহ গ্রহণ করবেন। এরপর সন্ধ্যা সাতটায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ ২১ বেইলি রোডে তার সরকারি বাস ভবনে নেওয়া হবে। সেখান থেকে মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ১৯৯৬ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা) আসনে টানা পাঁচবার নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও বিজয়ী হন তিনি। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত জুলাই থেকে সৈয়দ আশরাফ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশরাফ মারা যান। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। অংশ নেন একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে। স্বাধীনতার পর তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ইং সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে এসেছিলেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ফেরার পর অংশ নেন ১২ই জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ১৯৯১ সালে বিএনপির কাছে হারানো কিশোরগঞ্জ সদর (তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৩) আসনটি ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজনীতিতে অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। এই প্রত্যাবর্তনের পর একজন ভদ্র, বিনয়ী রাজনীতিবিদ হিসেবে দলের সবার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা কুড়াতে বেশি সময় নেননি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

১৯৯৬ইং সালের ১২ই জুনের নির্বাচনে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলের চরম ভরাডুবির সময়েও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই আসন থেকে টানা দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হ্যাট্রিক জয়ের পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মহাজোট সরকারের মন্ত্রীসভায় লাভ করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব। এ সময়ে টানা দুইবার তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ অলঙ্কৃত করেন।

এর আগে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দলের ক্রান্তিলগ্নে দলের হয়ে অসাধারণ ভূমিকা পালন করায় তিনি আবির্ভূত হন। এই সময়ে অতিকথন ও ক্ষমতার দম্ভ সৈয়দ আশরাফকে স্পর্শ করতে পারেনি। একজন উদার পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাজনীতিবিদের মতোই তিনি নীরবে নিভৃতে পথ হেঁটেছেন।

শোকাহত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জবাসীর এক অনুভূতির নাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান হিসেবে পারিবারিক ঐতিহ্য এবং একজন সৎ, ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে ক্লিন ইমেজের এমন রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী সৈয়দা শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের ২৩শে অক্টোবর লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

পরবর্তীতে তাকে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একমাত্র সন্তান সৈয়দা রিমা ইসলাম লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন।