সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘মোংলা কাস্টমস হাউস’ পূর্ণাঙ্গভাবে এ মাসেই স্থানান্তর

৬:৫৩ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৯ খুলনা

কামরুজ্জামান জসিম, মোংলা প্রতিনিধি: বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবির মুখে বেশ কয়েক বছর আগেই মোংলা কাস্টমস হাউজ খুলনার খালিশপুর থেকে মোংলা বন্দর এলাকায় স্থানান্তরের সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

২০১৭ইং সালের ৫ আগষ্ট মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪ তম সভায় নৌ মন্ত্রীর নির্দেশনাও আলোর মুখ দেখেনি। তারও আগে ২০১১ইং সালে মন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিলেও সেটিও দীর্ঘদিনে বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এবার মোংলা বন্দরের কাস্টম হাউস অবশেষে মোংলায় পূর্ণাঙ্গভাবে এ মাসেই স্থান্তর করা হচ্ছে বলে মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন।

আগামী ২০ জানুয়ারী থেকে এর কার্যক্রম মোংলা বন্দরের নতুন ইউনিট থেকে চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, খুলনাস্থ মোংলা কাস্টম হাউসের রপ্তানী শুল্কায়ন ও আমদানি শুল্কায়ন গ্রুপ-২ এবং ৪ এর শুল্কায়ানসহ সকল কার্যক্রম চালু করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

১৯৫০ইং সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর হিসাবে মোংলার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই মোংলা কাস্টমস হাউস খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ব্যবসায়ীরা আমদানি রপ্তানির স্বার্থে মোংলা কাস্টম হাউস মোংলায় রাখার দাবি করে আসছিলেন।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু এন্ড সন্স এর মালিক আলহাজ্ব এইচ এম দুলাল এবং মেসার্স মায়া এন্টারপাইজের মালিক আহসান হাবিব হাসান বলেন, মোংলা বন্দর থেকে খুলনার খালিশপুর পর্যন্ত দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। একজন ব্যবসায়ীকে শুল্কায়ন সহ পণ্য খালাসের জন্যে দুই থেকে তিন দফায় খুলনা-মোংলা করতে হয়। ব্যবসায়ীদের এ হয়রানি দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে চলে আসলেও এখনো মোংলায় আসেনি মোংলা কাস্টমস হাউস।

তারা আরো বলেন, মোংলা বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও যথাস্থানে কাস্টম হাউসের মূল অফিস না থাকায় ব্যবসায়ীদের ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তারা বলেন, বন্দরে কাজ শেষ করে কাস্টম ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে খুলনায় যেতে হয়। পরে ওই কাগজ নিয়ে আবার বন্দরে ফিরে এসে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিতে হয়।

খুলনা সি এন্ড এফ (ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান আহম্মেদ বলেন, শুধু কার্যালয় মোংলায় আসলেই তো সমস্যার সমাধান হবে না। শুল্কায়ন কার্যক্রমের সাথে বেশ কিছু কার্যক্রম জড়িত। ব্যাংকিং সেবা, ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ), শিপিং এজেন্সির কার্যক্রমসহ বেশ কিছু কার্যালয়ও শুল্ক কার্যালয়ের সাথে সাথে মোংলায় স্থানান্তর করতে হবে।

মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোংলা বন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের কাস্টমস সংশ্লিস্ট যাবতীয কার্যক্রম খুলনা ও মোংলা এ দুই স্থানে সম্পন্ন হয়ে আসছে। পণ্য পরীক্ষা, রামেজ (ঘোষণার অতিরিক্ত কোন পণ্য জাহাজে আছে কি-না তা পরীক্ষা), ইপিজেড পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন, পণ্য খালাস, প্রিভেন্টিভ (নিবারকমূলক কার্যক্রম) সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম মোংলা কাস্টমস কাউস এর বন্দর ইউনিট অর্থাৎ মোংলা বন্দরে সম্পন্ন হচ্ছে।

অন্যদিকে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইজিএম (জাহাজে আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা) দাখিল, আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও রাসায়নিক পরীক্ষা সংশ্লিস্ট কার্যক্রম খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত মূল কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়ে আসছে। তবে মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারী থেকে মোংলা ইউনিট থেকে সকল কর্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, যে কোন মূল্যেই আমরা চাই মোংলা বন্দরের সাথেই কাস্টমস কার্যালয় স্থানান্তরিত হোক। আপাত: সমস্যার সমাধানের জন্যে আমাদের ট্রাফিক বিভাগের কিছু কক্ষ তাদের ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তাতে তাদের পুরো কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সেটি আমাদের বন্দরের জন্যেই মঙ্গল।