হাতীবান্ধায় ঢাবি ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার দায়ে খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

৯:০৩ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৯ রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সিথি কিবরিয়াকে অপহরনের চেষ্টার দায়ে ফিউজ্জামান জুয়েল (৩৫) নামে এক খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার নামে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ জানুয়ারী) সকালে সিথি কিবরিয়ার মা মাসুদা আখতার বানু বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার সকালে জহুরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সিথি কিবরিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর ৩য় বর্ষের ছাত্রী। সে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন সরকারী কলেজের অধ্যাপক ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনি আলী আকতার গোলাম কিবরিয়া মেয়ে। অপরদিকে উপজেলার দক্ষিন গড্ডিমারী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের ছেলে তফিউজ্জামান জুয়েল। সে বর্তমানে নিলফামারী জেলার ডিমলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন এবং হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

মামলা সুত্রে জানা যায়, সিথি কিবরিয়া তার সহপাঠীসহ ‘আমরাই পারি’ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান শেষে গত বুধবার বিকেলে মাইক্রোবাস যোগে হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজ থেকে বাসায় ফিরছিলো। এমন সময় তফিউজ্জামান জুয়েলসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসটি গতিরোধ করে সিথি কিবরিয়াকে অপহরন করেন।

এ সময় সিথি কিবরিয়ার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে জুয়েল ও তার সহযোগীরা সিথিকে রেখে পালিয়ে যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে তফিউজ্জামান জুয়েল কিছুদিন পূর্বে সিথি কিবরিয়ার পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ওই প্রস্তাবে সিথির পরিবার রাজি হয়নি।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা তফিউজ্জামান জুয়েল বলেন, ঘটনার দিন আমি সকাল সন্ধ্যা সরকারী কাজে কর্মস্থলে ব্যাস্ত ছিলাম। সিথির পরিবারের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আমি ওই পরিবারের কাছে টাকা পাই। পাওনা টাকা চাওয়ার অপরাধে একটি নাটক সাজিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে তফিউজ্জামান জুয়েলের ওইসব অভিযোগ মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন দাবি করে আইনের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছেন সিথি কিবরিয়ার পরিবার।

হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাইক্রোবাসের চালক জহুরুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।