শেষবারের মতো সংসদ ভবনে সৈয়দ আশরাফ, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

১১:১৫ পূর্বাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ৬, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল, প্রতিটি জাতীয় সংসদে বিরতিহীনভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কখনো বিরোধী দলে, কখনো সরকারি দলে। সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংসদে যুক্তিপূর্ণ আলোচনায় তুলে ধরেছেন এলাকার মানুষের কথা, সরকারের নীতিনির্ধারণী কৌশল বা দলের ভূমিকার কথা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই জাতীয় সংসদ ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন।

আজ রোববার সকালে নিজের সেই চেনা, পরিচিত কর্মস্থল জাতীয় সংসদে শেষবারের মতো এলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। তবে কফিনে মোড়ানো নিথর দেহে।

তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সময় হাজির ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর দলের অন্য সহযোদ্ধারা।

সকাল সাড়ে ১০টার পর জানাজা শেষে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী সৈয়দ আশরাফকে। এর পরপরই তার মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলী দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তারপর মরহুমের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

সর্বস্তরের জনতার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগে মরহুম আশরাফের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

সংসদ ভবনে প্রথম জানাজা শেষে হেলিকপ্টারযোগে আশরাফের মরদেহ কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দুপুর ১২টায় শোলাকিয়া ঈদগাহে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় জানাজা বেলা ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর হেলিকপ্টারযোগে কিশোরগঞ্জ থেকে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ ফের ঢাকায় আনা হবে এবং বিকেলে বনানী করবস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ আশরাফ মারা যান। শনিবার (৫ জানুয়ারি) তার মরদেহ দেশে আনা হয়।