রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেই চিরবিদায়: শাজাহান খান

৪:০১ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিদায় নয়, মন্ত্রণালয়ে আমার আজ শেষ কার্যদিবস বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য বিদায়ী নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। সোমবার (৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এসময় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শাজাহান খান বলেন, আমি বিদায় নিচ্ছি না, রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেই চিরবিদায়। রাজনীতি যতক্ষণ করছি ততক্ষণ আমি মনে করি, আজকে মন্ত্রী আছি কালকে থাকব না। জনগণের পাশে থাকব, তাদের জন্য কাজ করব।’

সদ্য বিদায়ী নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা খুব বাস্তবমুখী। তার এই অগ্রযাত্রায় সবাই সাহসী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।

নতুন মন্ত্রিসভাকে স্বাগত জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, নতুন অনেকে আজকে মন্ত্রিসভায় এসেছেন। সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জীবিত থাকা পর্যন্ত হয়ত হবোও। যারা নতুন আসছে, তাদের যে উদ্দীপনা-শক্তি সেটাকে কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রী অনেককে নিয়ে এসেছেন। তারা অত্যন্ত যোগ্য।’

তিনি বলেন, আমার মেয়াদে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এখনও কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।

আরও পড়ুন-

শেষ কর্মদিবসে যা বললেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার শেষ কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

দশম জাতীয় সংসদের মন্ত্রীদের শেষ কর্মদিবসে আজ সোমবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যে কৃতিত্ব তা আপনাদের সবার। আমি যা নই, তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কৃতিত্বের অধিকারী করেছেন। তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন বলেই আমার এই কৃতিত্ব। তবে এই কৃতিত্ব সবার। আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার দায়িত্ব সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি।’

রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি কে কোন দপ্তর পাচ্ছেন তাও জানান।

৪৬ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী থাকছেন। এদের বেশিরভাগই নতুন। পুরনো মন্ত্রিসভার ৩৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বাদ পড়েছেন। তাদের মধ্যে বাদ পড়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদও।

নতুনদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া এটা প্রধানমন্ত্রীর একটা বিরাট দূরদর্শিতা বলে মন্তব্য করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এটা আমার সৌভাগ্য যে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি, সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটাকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলবার ক্ষেত্রে নতুনদেরকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, সেটা একটা বিরাট দূরদর্শিতা এবং খুব সঠিকভাবেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

নাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘ ১০ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা আধুনিক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি। শিক্ষা পরিবারের সবার সহযোগিতায় আমরা একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। এটা সবার অবদান।’

সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি একজন অভিজ্ঞ বিচক্ষণ মানুষ। শিক্ষা পরিবারের যে অগ্রগতি তা তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনারা সবাই তাকে সহযোগিতা করবেন। গত ১০ বছরের সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন।’