• আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

৭:১৭ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- সৌদি আরবে আটক থাকা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। জেদ্দার শামাইসি কারাগার থেকে বিমানযোগে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য তাদেরকে রবিবার আলাদা স্থানে জড়ো করা হয়। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট-আই এ খবর জানিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,  সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গাকে জেদ্দা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোমবার বিকালের ফ্লাইটে তাঁদের তুলে দেয়া হতে পারে বলে জানান জার্মানিতে নির্বাসিত রোহিঙ্গা ব্লগার নেয় স্যান লুইন।

এর আগে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন বন্দি শিবিরে কয়েক বছর আটকে রাখা হয় বলে টুইটারে লিখেছেন তিনি৷ তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন নেয় স্যান লুইন৷ এতে এক ব্যক্তির কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে৷ তিনি গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন বলে জানান৷ এখন তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে ঐ ভিডিওতে দাবি করেন তিনি৷

ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে ব্লগার নেয় স্যান লুইন ডয়চে ভেলেকে জানান, তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে থাকা একজনের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাঁদেরকে স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটায় (বাংলাদেশে রাত আটটা) সৌদি এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইটে বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে বলে ঐ ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছেন৷

নেয় স্যান লুইন বলেন, অতীতেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ তিনি জানান, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে ঢুকেছিলেন৷ পরে তাঁদের আটক করার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ঐ দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া বাকি তিন দেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়, বলে দাবি তাঁর৷

নেয় স্যান লুইন বলেন, ‘‘আমি বাংলাদেশের অবস্থান বুঝি৷ সৌদি আরবে বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক কাজ করছেন৷ সেজন্য তারা কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা চান না৷’’ কিন্তু এমনিতেই বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন৷ ফলে নতুন করে যাওয়া এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি৷

‘মিডল ইস্ট আই’ নামে সংবাদভিত্তিক এক অনলাইন সংস্থা গত নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শুরুর খবর প্রকাশ করেছিল৷ মধ্য অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফর শেষ হওয়ার কিছুদিন পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে দাবি করেছিল মিডল ইস্ট আই৷

সেই সময় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গা বিতাড়ন বন্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছিল৷ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র আমিনা যুবাইরি মিডল ইস্ট আই’কে সেই সময় বলেছিলেন, ‘‘আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম৷ তাঁরা বলেছে, রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করা হচ্ছে না৷ বিতাড়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যাঁরা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে এবং যাঁরা রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়, সেটা পেতে নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে৷’’

এদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক অ্যাডাম কুগল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক আইনের পরোয়া না করে এমন সব স্থানে মানুষদের ফেরত যেতে বাধ্য করেছে, যেখানে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়৷ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে, যেখানে পর্যাপ্ত সেবার অভাব রয়েছে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনার বিষয়টি সৌদি আরবের রেকর্ডে আরেকটি কালো চিহ্ন৷’’