গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ১০, মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

৮:১৩ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

মো:ইমাম উদ্দিন সুমন,স্টাফ রির্পোটার: সময়ের কণ্ঠস্বর: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে ভোটের দিন রাতে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে রোববার সন্ধ্যায় মামলাটি তদন্তের স্বার্থে জেলা গোয়েন্দা সংস্থাতে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ।

এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা হচ্ছেন- সুবর্ণচর উপজেলার মধ্য বাগ্যা গ্রামের রুহুল আমিন, সোহেল, হাসান আলী বুলু, স্বপন, ইব্রাহীম খলিল বেচু, বাদশা আলম বাসু, জসিম উদ্দিন, আবুল, মুরাদ ও সালাউদ্দিন।

গ্রেফতারকৃত ১০ আসামির মধ্যে ৭জন আসামির প্রত্যেকের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল নোয়াখালী-২নং আমলি আদালতে এজাহারভুক্ত ৭আসামির প্রত্যেকের ৭দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে, গত রোববার দুপুরে শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নবমিতা গুহ প্রত্যেক আসামীর ৫দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডকৃত ৭ আসামী হলো- মূল ইন্ধনদাতা রুহুল আমিন, মূল হোতা হাসান আলী বুলু, প্রধান আসামি সোহেল, স্বপন, বাদশা আালম বাসু, বেচু ও জসিম।

গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ পারুল বেগম এবং তার স্বামী সিরাজ মিয়া বলেন, ভোট কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট রুহুল আমিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রোববার গভীর রাতে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন সহ ১০ থেকে ১৫জনের একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গৃহবধূর বসত ঘর ভাংচুর করে। পরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ওই গৃহবধূর স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে পারুল বেগমকে বাহিরে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চরজুবলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ওই ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিন। ওই নির্বাচনে সিরাজ মিয়া সহ তার পরিবারের সদস্যরা রুহুল আমিনের ভোট না করে অপর প্রার্থী খলিল উল্যার ভোট করেন। সেই থেকেই সিরাজ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন রুহুল আমিন।

জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ জানান, গণধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত ৯জন আসামির মধ্যে ৬জন ও অভিযুক্ত মূল হোতা ৩জন সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের স্বার্থে জেলা গোয়েন্দা সংস্থাতে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।