ছোট মানুষ বড় দায়িত্ব, রিকশা চালিয়ে পড়াশোনা এবং পরিবারের খরচ

৯:০৯ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৯ বরিশাল

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনাপ্রতিনিধি: যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই খাতা কলম আর অন্য ছাত্র,ছাত্রীদের মত খেলাধুলা করার সে বয়সে দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে  রিকশা চালিয়ে পরিবারের খবার ও নিজের পড়াশুনার খরচ যোগান ৯ম শ্রেনীর ছাত্র কাওসার।

হাতে রিকশার হ্যান্ডেল, পায়ে প্যাডেল সকালে ২ ঘন্টা বিকাল ৪ট থেকে  রাত ৮ টা পর্যন্ত  ৬  ঘন্টা রিকশা চালিয়ে পরিবারের খাবার উর্পাজন  ও পড়ালেখার খরচ যোগাড় করছেন  ১৩ বছরের এই শিশু । কাওসার আমতলী সদর ইউনিয়নের ইব্রাহিমের ছেলে। ।আমতলী সদর ইউনিয়নের মানিকঝুড়ি মাহমুদিয়া  দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেনীর ছাত্র সে।  সোমবার সকালে আমতলী নুতন বাজার বাধঘাট বটতলা থেকে  প্রেসক্লাবে  আসার পথে কথা হয় কাওসারের সাথে ।  তখন কাওসার বলেন পিতা ইব্রাহিম মা শাহিনুর বোন ফারজানা ও কাওসার কে নিয়ে চার জনের সংসার । চারজনের সংসারে উপাজনক্ষম কাওসারের পিতা  ইব্রাহিম।দিন মজুর রিকশা ও ইটখলায় কাজকরে পরিবারের ব্যয়বার বহন করেন। জমি জমা বলতে ৪ শতক বাড়ী ঘরসহ । বর্তমানে কাওসারের পিতা আমতলীর একটি ইট ভাটায় কাজ করেন। গত ২/৩ মাস পূর্বে হঠাৎ করে ইব্রাহিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পরায় পরিবারের সদস্যরা  অনাহারে দিনাতিপাত করতে থাকে। এমনি সময়ে মানিকঝুড়ি দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেনীর ছাত্র কাওসার পরিবারের খবার ও নিজের পড়াশুনার খরচের জন্য রিকশার হ্যান্ডেল হাতে ধরেন।

 সকালে বিকাল ও রাতে  ৬ ঘন্টা রিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় করেন। সেই টাকা দিয়েই পরিবারের সদস্যদের খাবার ও নিজের পড়াশুনার খরচ যোগান সে।  সকালে  ২ঘন্টা রিকশা চালিয়ে মাদ্রাসায় যায় কাওসার  মাদ্রাসা ছুটি হলে বাড়ীর কাজ কর্মকরে বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে বাড়ী গিয়ে পড়তে বসেন।

আমতলীর  মানিকঝুড়ি দাখিল মাদ্রাসার সুপার তত্ত্বাবধায়ক মাও: মো. আবু তাহের সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন  কাওসার  একজন ভাল ছাত্র ও অষ্টম শ্রেনীর জেডিসি পরীক্ষায় ৪.৩৯ পেয়েছে । সে নিয়মিত ক্লাশে আসে।  ওর কাছ থেকে  আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার টাকা পয়সা নেই না।  ও যে ভাবে রিকশা চালিয়ে পড়ালেখা করে এ যুগে  এ রকম ছেলে খুজে পাওয়া যাবেনা।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আকমল হোসেন বলেন  খোঁজ নিয়ে  কাওসারকে  সার্বিক সুযোগ সুবিদা দেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.সরোয়ার হোসেন বলেন  খোজ নিয়ে সরকারী ভাবে সুযোগ সুবিদা নেয়া হবে।