বউয়ের সঙ্গে চ্যাটিং, থানায় ডেকে যুবককে পেটালেন ডিসি!

১১:০৯ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক:থানার মধ্যে এক যুবককে ডেকে এনে পেটালেন জেলা প্রশাসক।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, যুবককে পেটানো ওই জেলা প্রশাসকের নাম নিখিল নির্মল। স্ত্রী সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে থানার মধ্যে বিনোদ কুমার সরকার নামে এক যুবককে পেটান তিনি।

জানা যায়, স্ত্রী সম্পর্কে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এক যুবককে ফালাকাটা থানায় ডেকে পাঠান নিখিল নির্মল। কোনো অভিযোগ দায়ের না করে, থানার ভেতরেই এক পুলিশ কর্মকর্তার সামনে ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করেন নিখিল ও তার স্ত্রী। যুবককে পেটানো সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে জেলাশাসককে বলতে শোনা যায়, ‘আমার জেলাতে আমার বিরুদ্ধে কেউই কথা বলবে না।’ কথার মধ্যেই একের পর এক থাপ্পড় পড়তে থাকে যুবকের ওপরে। পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন জেলাশাসকের স্ত্রী নন্দিনী কৃষন। তিনিও পেটান ওই যুবককে।

ভিডিও আরও দেখা যায়, ‘সরি স্যার, সরি স্যার, বলতে থাকেন ওই যুবক। নিখিলের স্ত্রীকে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘উঠে দাঁড়া। কথাটা বলার সময় মনে ছিল না।’ গাড়ি থেকে লাঠি নিয়ে আসতে বলেন নিখিল নির্মলের স্ত্রী।

পাশ থেকে কেউ বলে ওঠেন, ‘না, না, লাঠি ইউজ করা যাবে না।‘ এর মধ্যেই ফের যুবকের সামনে চলে আসেন জেলাশাসক। তিনি বলে ওঠেন, ‘তোমাকে আধ ঘণ্টার মধ্যে যদি থানায় ঢুকিয়ে দিতে পারি তাহলে তোমার বাড়িতে ঢুকেও মেরে ফেলতে পারি।’

জেলাশাসকের স্ত্রী ওই যুবককে প্রশ্ন করেন, ‘কে তোমাকে ওই ধরনের মন্তব্য করতে বুদ্ধি দিয়েছে। কেউ তো বলেছে!’ এরমধ্যেই তেড়ে আসেন জেলাশাসকও।

বলতে থাকেন, ‘একজন মহিলা সম্পর্কে এসব বলবি তুই!’ মোবাইল দেখিয়ে জেলাশাসকের স্ত্রী ওই যুবককে বলেন, ‘লাইনটা পড়। লাইনটা পড় তুই। কী লিখেছিস পড়।’ এরমধ্যেই এক পুলিশকর্মী ওই যুবককে সরিয়ে নিয়ে যান। বলতে থাকেন, ‘আপনি আগে কমপ্লেন দিন। তারপর ব্যবস্থা।’

ঘটনাটি ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই জেলা প্রশাসককে ১০ দিনের ছুটিতে পাঠান মুখ্য সচিব।