আধুনিকতার ছোঁয়ায় কদর কমেছে মুন্সীগঞ্জের মৃৎশিল্পের

১:৩৩ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৯ ইতিহাস-ঐতিহ্য

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঘাইন ঘোড়ানো সানাই শব্দ আর ঝনঝনানি আওয়াজে আজ আর কারোও ঘুম ভাঙ্গে না। অথবা সময় হয়েছে কাজে যেতে হবে এমনটি ও মনে হয়না কারো।

নেই লৌহজং পালের বাজার, নাগের হাটের নাগ পরিবারও যেন ঘুমিয়ে পরেছে অনেক আগেই। মাটির পাত্র – স্বর্ণ নয় কিন্তু তার রং চকচকে। এক সময় বিয়েসাদী হলেই ছিলো এই মাটির পাত্রর অবস্থান। ছিলো আভিজাত্যের মর্যাদা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই মাটির পাত্র ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর দৃশ্যের আড়াল হয়ে গেছে। মাত্র দু-তিন দশক আগেও এসব প্রাচীন ধাতব পণ্যের যে সমাদর ছিলো, তা যেন কালের অতলে হারিয়ে গেছে। খুঁজে পেতে রীতিমতো অনুসন্ধান করতে হয়।

বিক্রমপুরের লৌহজংয়ে পদ্মার কড়াল ঘ্রাসে আজ অনেকটাই নিস্ব এই পেশার এ মানুষ গুলো সাধ থাকলেও সাধ্য যেন অনেকটাই ঝিমিয়ে পরেছে তাদের। দিঘলীর পালের বাজার আর লৌহজংয়ের নাগের হাটের শতাধিক মাটির পাত্রের দোকান ও ১৫টি কারখানায় এখন এসে দাড়িয়েছে মাএ ৫ থেকে ৬টি দোকানে। তাও আবার অর্থের অভাবে এই শেষ স্মৃতিটুকু তাদের বিলীন হতে বসেছে।

কনকসার বাজারের শ্রীনগর মনি পট্টির শ্রী সতেন্দ্র মন্ডল ৩০ বছর ধরে কারীকর হিসেবে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। মালিকরা অনেকেই এই ব্যবসা ছেরে দেয়ায় তিনি নিজেই মালিক হিসেবে এই ব্যবসার হাল ধরেছেন তাতেও যেন শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কারন অর্থের অভাবে এই শিল্প এখন অনেকটাই মুখ থুবরে পড়েছে। তাছারা লৌহজংয়ে পদ্মার ভাঙ্গনে পালের বাজার বিলীন হওয়ার পর থেকেই এ ব্যাবসার অনেকটা ধস নেমেছে। মেলামাইন আর ঝকঝকে স্টিলের ব্যবহারে, মাটির পাত্রের ব্যাবহার এখন অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

এক সময়ের হাড়ি পাতিল, পুজার বাটা, মালসা, পুজার কলস, গ্লাস, থালা, পানের বাটা, মগ, কুপি বাতি, কলস, চারি ইত্যাদি তৈরী করা হতো এবং এসব জিনিসের খুব কদর ও ছিলো আজ কালের গর্বে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব পুরোনো সব ঐতিহ্য।

কনকসার গ্রামের শামসুন্দর কংস বনিক জানান, তার কারখানায় ৩ জন পুরুষ শ্রমিক আর ৭ জন নারী শ্রমিক রয়েছে যাদের দিয়ে বর্তমানে হিম সিমে চলছে এই ব্যবসা। এদিকে এ মৃৎশিল্পে দুর্দিন শ্রীনগরে পৈতৃক পেশায় কোনো রকমে টিকে আছেন মৃৎশিল্পীরা।

বিকল্প কোনো পেশা বা অন্য কোনো পেশার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে তারা টিকে আছে। তাদের জীবনে নেমে এসেছে অন্তহীন দূর্দশা। এক সময়ে মাটি শিল্পের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ শিল্প বিলুপ্তির পথে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত শিল্প পরিবারগুলোর দূর্দশার শেষ নেই। মেলামাইনের কারণে মাটি শিল্প বিলুপ্ত হতে চললেও এ ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ধরে রেখেছে শ্রীনগর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কুমার।

এক সময় মাটির তৈরি সামগ্রীর কোন বিকল্প ছিলনা। সে সময় মাটি শিল্প ছাড়া কোন কিছু চিন্তা করা যেতনা। চাহিদার আলোকে শ্রীনগরে গড়ে ওঠে ১৫/২০ টি কুমারপাড়া। শ্রীনগর ষোলঘর বাজার পাশ দিয়ে পথচারী যাওয়ার সময় মাটি তৈরি, এ সামগী দেখতে পায় খুবই সিমীত । এখন আর সেদিন নেই। কালক্রমে সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে মাটি তৈরি সামগ্ররী ব্যবহার। মেলামাইন ও প্লাষ্টিক দখল করছে তার স্থান। এক সময়ে উৎকৃষ্ট মানের সামগ্রী কলস, পাতিল, থালা ইত্যাদি সহ নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর সুনাম ছিল দেশ জুড়ে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কদর কমেছে এ শিল্পের তৈজষপত্রের।

শুরু হলো ভাষার মাস

⊡ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২১

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা bangladesh ৬৪ জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

⊡ শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২০

boimela ভার্চুয়ালি নয়, আগের মতোই হবে বইমেলা

⊡ রবিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

nur শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

⊡ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১০, ২০২০

kotalipara কোটালীপাড়ায় শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী নৌকা বাইচ

⊡ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২০