সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৩ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

১:৩৭ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ১৩ রোহিঙ্গা মুসলমানকে মিয়ানমারের পরিবর্তে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি সরকার।

জেদ্দা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটায় সৌদি এয়ারলাইনসের (এসভি৮০২) বিমানযোগে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঢাকা ইমিগ্রেশনের হেফাজতে রয়েছেন তারা।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, এই রোহিঙ্গারা সৌদি আরবে অনুপ্রবেশকারী বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী। তাদের মিয়ানমারের পরিবর্তে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইর ওয়েবসাইটে পাঠানো ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জেদ্দার সুমাইসি নির্বাসন কেন্দ্রের বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ওই রোহিঙ্গাদের। তাদের মধ্যে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে যেতে অস্বীকৃতি জানান তাদের হাতকড়া পরানো হয়।

একজন রোহিঙ্গা এই ভিডিও ধারণ করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ওই ব্যক্তি বলেন, ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে কারাবন্দি ছিলেন এমন মানুষদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে আছি। এখন তারা আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমার জন্য দোয়া করুন।’

এদিকে সৌদির জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে দেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানোর বিষয়ে উভয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। এদের বেশিরভাগ ২০১১ সালের পর মিয়ানমারের নিপীড়ন এড়াতে ও জীবিকার তাগিদে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি যায়। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জমাচ্ছে।

সৌদি আরবে প্রবেশের পরই বিদেশি পাসপোর্টধারী সবাইকে সৌদি অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে আঙুলের ছাপ দিতে হয়। ২০১০ সালে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এতে করে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ধরা পড়ছে। এই ব্যবস্থার আগে যাদের আটক করা হয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তা নেওয়া হতো।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ওই রোহিঙ্গারা ঢাকায় পৌঁছেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছেন। তবে তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে আছেন।’