শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার

◷ ৬:১৫ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর :: সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে পোশাকশ্রমিকরা। শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছে সরকার। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিত আছেন বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ র্কমর্কতা মো. আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকার ঘোষিত কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত রোববার থেকে প্রতিদিনই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা।

জানা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে।

এদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকার তাদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। বরং তাদের নানাভাবে ‘অন্যায়-অবিচারের’ শিকার হতে হচ্ছে।

শ্রমিকরা জানান, নতুন মজুরিকাঠামোতে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম বা ৭ নম্বর গ্রেডে মজুরি বেড়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। তার মধ্যে মূল মজুরি ১ হাজার ১০০ টাকা। একই হারে অন্যান্য গ্রেডের মজুরিও বেড়েছে। সরল এই অঙ্কের মধ্যেই রয়েছে গলদ। কারণ, প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সে জন্য ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের পুরোনো অনেক শ্রমিক ঘোষিত নতুন মজুরিকাঠামোর সমপরিমাণ মূল মজুরি এখনই পাচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি কারখানায় এই তিন গ্রেডেই সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করেন।