সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জাঅনুদান দেওয়া হবে, তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোকেয়া জামালকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায় জনগণ

৬:১২ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৯ স্পট লাইট

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার: সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ীদের নিয়ে নতুন করে চৌকস মন্ত্রী সভা গঠন করেছে সরকার। তবে সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে কারা থাকছেন, এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

যদিও সংরক্ষিত মহিলা আসনগুলির জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চৌকস নারী নেতৃত্বের দাবিদারদেরকে খুঁজছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশনেত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রার্থীও হয়েছেন অনেকেই।

এদিকে অতীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে অগ্রনী ভুমিকা রেখেছেন এমন নেতৃদেরকেই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে দেখার দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।

এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা পত্নী, মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী মোল্লা পরিবারের সন্তান, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাফরুল থানা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, মিরপুরের বর্তমান রাজনীতির মাঠে সদা সক্রিয়, রাজপথের লড়াকু সৈনিক রোকেয়া জামাল।

হ্যা। রোকেয়া জামালকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেই দেখতে চায় মিরপুর বাসী। নির্বাচন পরবর্তী এই সময়ে সরেজমিনে মিররপুরে সকল শ্রেণী পেশার জনমানুষের সাথে কথা বলে পরিস্কার হয়েছে বিষয়টি।

নিজের পিতার হাতে রাজনীতিগত হাতেখড়ি নিয়ে ছাত্র জীবন ও তৃনমূল থেকেই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা রোকেয়া জামালের জন্ম সুত্রেই রক্তে মিশে আছে আওয়ামীলীগের রাজনীতি। স্থানীয় রাজনৈতিক – অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্বের পাশাপাশি জনসেবায় বিশেষ অবদান রেখেছেন ধারাবাহিকভাবেই। ত্যাগের খাতায় কম হিসাব নেই। দলের দুঃসময়ে কারাবন্দী হতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর রাজপথের এই লড়াকু সৈনিককে।

ছাত্রী থাকাকালীন কিশোরী বয়সেই বাবার হাত ধরে জিয়ার হা, না ভোটের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের পক্ষে ড. কামালের নেতৃত্বে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভুমিকা রাখার পাশাপাশি এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে সরকারের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত রাজপথই ছিলো রোকেয়া জামালের ঠিকানা। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বড় বড় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ঢাকা-১৫ আসনের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করতে প্রতিটি নির্বাচনেই সক্রিয় ব্যাপক ভুমিকা রেখেছেন রোকেয়া জামাল। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচনে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে ঝাপুয়ে পড়েন তিনি।

২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কঠোর আন্দোলনে মাঠে নামলে ১০/১২ টি মামলার স্বীকার হয়ে রোকেয়া জামাল ও তার স্বামী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশের ০৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বর্তমান ডিএনসিসি ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা একসাথে কারাবন্দী হন। জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী ছিলেন। ২০০৬ সালে জামায়াত জোট বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামীলীগের পক্ষে সকল কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করেন। মামলা হামলার স্বীকার আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের মুক্ত করতে ও তাদের পরিবারের পাশে থেকে অর্থ সহোযোগীতা করেছেন সব সময়।

রোকেয়া জামালের বাবা মরহুম হাজী দীন মোহাম্মদ মোল্লা জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ স্নেহের রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। ১৯৭০ সালে ১২ই নভেম্বর দক্ষিনবঙ্গে ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ে আক্রান্ত এলাকায় মানুষের সাহায্যার্থে বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন। ১৯৭৩ সালে বৃহত্তর মিরপুরের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিরপুরবাসীর সুখ দুঃখে পাশে ছিলেন।

মিরপুরে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের বরাত দিয়ে রোকেয়া জামাল দাবি করেন, যেহেতু আমার এলাকাবাসী আমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ হিসেবে দেখতে চায়। আমিও তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়ে বলতে চাই, সাংসদ নিযুক্ত হলে আমি প্রথমেই দলমত নির্বিশেষে অসহায় দরীদ্রদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চত করবো। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাদেরকে পাশে রাখব। আমার দয়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তী উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ভুমিকা পালন করবো।