• আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মুসলিম ছাড়া অন্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতে বিল পাশ

১১:৩১ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে বিল পাশ করেছে ভারত সরকার। গতকাল মঙ্গলবার লোকসভার অধিবেশনে এই বিলটি পাশ হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিল আইনে পরিণত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, শিখ এবং খ্রিস্টান ধর্মের লোকেরা ভারতে থাকার আবেদন করলে মিলবে এ দেশের নাগরিকত্ব।

তাই এই বিল পাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রের কড়া বিরোধিতায় সরব হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো।

গতকাল সোমবার এই বিতর্কিত বিল নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় এনডিএ ছেড়েছে আসামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল আসাম গণ পরিষদ (অগপ)। যদিও সেই বাধা অগ্রাহ্য করেই আজ লোকসভায় এই বিলটি পাশ করেছে মোদী সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এই বিল পাশ হওয়ার ফলে বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ আসামসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে আশ্রয় নেবেন। আইন পাশ হলে ১৯৭১ সালের মার্চের পরে ভারতে আসা শরণার্থীরা পেয়ে যাবেন নাগরিকত্ব। সে কারণেই ওই রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এই বিল ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ডের বিরোধী। সে কারণেই বিলটি শুরু থেকেই আসামের ওই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সংবেদনশীল। আসামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বহিরাগতদের নিজস্ব এলাকায় আশ্রয় দিতে বরাবরই নিজেদের বিরোধিতার কথা বলেছে প্রকাশ্যেই।

মঙ্গলবার এই বিলের বিরুদ্ধে আসামের রাস্তায় নামে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, আসাম গণ পরিষদ, এআইইউডিএফ সহ আরও বেশ কয়েকটি দল। তাদের বিক্ষোভে প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় আসামের জনজীবন।

তবে এই বিল প্রসঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, গোটা দেশের কথা মাথায় রেখেই এই বিল আনা হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিলে খ্রিস্টানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার কারণ, দেশভাগের সময় তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, এই বিলে লোকসভার স্পিকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল সংসদ সদস্য সৌগত রায় বলেন, এই বিলে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দয়া করে এই বিলটিকে ধর্মনিরপেক্ষ করুন।