• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে কীর্ত্তনে হাজার ভক্তের মন মাতালেন শিশু  প্রেমা রানী


অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বিশ্ব মানবতার শান্তি কল্পে,জগত প্রতিপালক ভগবান শ্রী কৃষ্ণের দিব্য নাম সংকীর্ত্তন ও তার রুপ ও গুনের আলোচনা নিয়ে বিশেষ আয়োজন মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্ত্তন  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্ত্তন উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এই প্রথম বারের মত চার দিন ব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয় অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্ত্তন । মঙ্গলবার দিন রাত ২৪ ঘন্টা দেশি-বিদেশি তিন জন লীলা শিল্পী অংশ নেয়। তিনজন লীলা শিল্পীর মধ্যে দুইজন ভারতীয় । গোপাল গোস্বামী কোলকাতা ও ঊমা ভারতী কর্মকার র্কীতন ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশারদ,বর্ধমান পশ্চিমবঙ্গ। এই দুই বিদেশী লীলা শিল্পীর সাথে লীলা কীর্ত্তন পরিবেশন করেন বাংলাদেশী আট বছরের শিশু লীলা শিল্পী কুমারী প্রেমা রানী রায়।

শিশু লীলা শিল্পী কুমারী প্রেমা রানী ত্রীব শীতের রাতে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তের মন মাতিয়ে দিলেন । এই লীলা শিল্পী লীলা কীর্ত্তনের মাধ্যমে নিজেই কাদঁলেন এবং উপস্থিত ভক্তদেরকেও কাদাঁলেন ।

শিশু শিল্পী কুমারী প্রেমার রানীর বাড়ী রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সানেরহাট ইউনিয়নের খামার সাদুল্ল্যাপুর গ্রামের কৃষক অতুল প্রষাদ রায়ের মেয়ে। কুমারী প্রেমা রানী খামার সাদুল্ল্যাপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী । প্রেমারা দুই বোন এক ভাই। প্রেমা সবার ছোট। প্রেমা পারিবারিক ভাবে গড়ে উঠেছেন। প্রেমার কীর্ত্তন পরিবেশনের সময় তার বাবা একজন নাম করা কী-বোট ও ভাই রুপশ চন্দ্র রায় হারমোনি বাধ্যযন্ত্র বাজায়। প্রেমার বাবা অতুল ও ভাই রুপশের কাছেই শিক্ষা নেয়।

প্রেমার বাবা অতুল প্রসাদ রায় ও ভাই জানান,গত এক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লীলা কীর্ত্তন পরিবেশন করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুনাম অর্জন করেন। প্রেমা একদিন বড় কীর্ত্তনীয়া হোক এই কামনা করছি। তাই সবার কাছে প্রেমার জন্য আর্শীবাদ চেয়েছেন।

লীলা শিল্পী কুমারী প্রেমা রানী বলেন, আমি খুব ছোট এখনো শিখতেছি। আমি সবে মাত্র তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছি। যেটুকু কীর্ত্তন শিখেছি আমার বাবা ও ভাইয়ের কাছেই শিখেছি। আমি ভবিষ্যতে একজন নাম করা বড় লীলা শিল্পী হতে চাই। সবাই আমাকে আর্শীবাদ করবেন যেন বিশ্বের নাম করা কীর্ত্তনীয়া হয়ে আমার বাবা-মা ও ভাইদের স্বপ্ন পুরণ করতে পারি।

ডিমলা উপজেলা থেকে ভক্ত বীনা রানী ও তার বাবা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, এই টুকু মেয়ে কি ভাবে যে হাজার হাজার উপস্থিত ভক্তের মাঝে সকালে টানা চার ঘন্টা ও রাতে চার ঘন্টা কীর্ত্তন পরিবেশন করেছেন। এই আট বছরের শিশু প্রেমা সকল ভক্তের মনকে জয় করেছেন। আসলে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হত না। তার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তায় আর্শীবাদ রইল সে এক দিন বড় হয়ে নাম করা কীর্ত্তনিয়া হবে।

মঙ্গলবার রাতে লীলাকীর্ত্তণ অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, ত্রীব শীতের রাতে হাজার হাজার ভক্তের মূখরিত ছিল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা উইনিয়নের নাখারগঞ্জ সব্যসাচী সংস্কৃত কলেজ প্রাঙ্গণ।

এ দিকে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্তন এক নজর শুনতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্তের আগমনে মূখরীত ছিল নাখারগঞ্জ সব্যসাচী সংস্কৃত কলেজ প্রাঙ্গণ।

এ যেন মিলন মেলায় পরিনিত হয়েছে। দুর-দুরান্তের আশা আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে এক আবেক ঘন উল্লাস যেন কয়েক বছর পর আপন জনদের দেখা মেলে। অনুষ্ঠানের চারিদিকে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ এবং কমিটির লোকজনও কঠোর নিরাপত্তা জোড়দার করেছেন।

গত রোববার ঘটস্থাপন,অধিবাস,ধর্মীয় আলোচনা,কুইজ প্রতিযোগিতা,গীতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা বৃত্তি ও সম্মাননা স্মারক প্রদান, সোমবার অষ্টপ্রহর ব্যাপী মহানাম সংকীর্ত্তণ, মঙ্গলবার অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্ত্তণ।  বুধবার দুপুরে মোহন্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের চার দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

এ প্রসঙ্গে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানের সভাপতি ও উদ্বোধক নাগেশ্বরী উপজেলা নিবার্হী অফিসার শংকর কুমার বিশ্বাস ও কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক বসন্ত কুমার রায় জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার ভক্ত অনেকটা শান্তি পূর্ণ ভাবে চার দিন ব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন অপ্রাকৃত লীলা কীর্তন উপভোগ করেছেন। অনুষ্ঠানে থানা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশসহ কমিটির সদস্যরা শান্তিপূর্ণ ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

◷ ৩:১৮ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, জানুয়ারী ৯, ২০১৯ রংপুর