মিয়ানমারের বিবৃতির কড়া প্রতিবাদ বাংলাদেশের

৬:১০ অপরাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ৯, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- “মিয়ানমারের সশস্ত্র বৌদ্ধ বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মি (এএ) এবং সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত মুসলিম রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরসার পাঁচটি ঘাঁটি বাংলাদেশে রয়েছে” বলে অভিযোগ করে মিয়ানমার যে বিবৃতি দিয়েছে তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (০৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

মিয়ানমার সরকারকে দেওয়া প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে আরাকান আর্মি কিংবা আরসার কোনো ঘাঁটি নেই। মিয়ানমারের মন্ত্রী আরাকান আর্মি এবং আরসা নিয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছে তা মিথ্যা এবং মনগড়া।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এক খবরে জানায়, প্রেসিডেন্ট অফিসের মুখপাত্র ইউ জাও হথে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরসার সঙ্গে আরাকান আর্মির সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি থাকার অভিযোগ করেন। গত বছরের জুলাই মাসে কক্সবাজারের রামুতে উভয় সংগঠনের নেতারা বৈঠকও করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ইউ জাও হথে বলেন, সরকার বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, রামুর ওই বৈঠকে মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে দুই গ্রুপের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মায়ু পর্বতমালার পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করবে আরসা এবং পূর্ব দিকের এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেবে আরাকান আর্মি। আর জুলাই মাসের ওই বৈঠকের জেরেই আরাকান আর্মি গত সপ্তাহে রাখাইনে একযোগে চারটি পুলিশ চৌকিতে হামলা করে ১৩ জনকে হত্যা করে। মিয়ানমার সরকার এসব হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে।

ইউ জাও হথে আরও দাবি করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আরাকান আর্মির দুটি এবং আরসার তিনটি ঘাঁটি রয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের কাছে মিয়ানমার অভিযোগ করেছে।

অভিযোগ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে আরসা বা অন্য কোনো ধরনের সন্ত্রাসী সংগঠনের ঘাঁটি নেই। এমন অভিযোগের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি একটি বাংলা অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া বক্তব্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, এমন অভিযোগের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।