সংবাদ শিরোনাম

মুশতাকের মৃত্যুকে ঘিরে আন্দোলনে বাতাস দিচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠী: তথ্যমন্ত্রীকক্সবাজারে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার যাবজ্জীবনস্বাধীনতা ইশতেহার পাঠের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভাবকেয়া বেতনের দাবিতে চট্টগ্রামে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধমাদক মামলায় দেশের ইতিহাসে প্রথম ফাঁসির আদেশকৃষকের অনীহা, আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থ খাদ্য অধিদফতরনিখোঁজের ৮ দিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার; পরিবারের দাবি হত্যাখালেদা জিয়ার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতিস্তা টোল প্লাজায় আট লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় রুপিসহ আটক ১শতাধিক যুবকের রঙিন চুল কাটালো পুলিশ

  • আজ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জের আতংক হকি দারোগাকে রুখবে কে?

৬:৩০ অপরাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ৯, ২০১৯ অপরাধ, ফিচার

বরিশাল প্রতিনিধি: সবার একটাই প্রশ্ন- এত অপকর্মের পরও যিনি বহাল তবিয়তে, তার খুঁটির আসল জোরটা কোথায়? অভিযোগের অন্ত নেই তার বিরুদ্ধে।পুরো থানা এলাকাটা যেন তারই রাজ্যপাট।অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রেফতার বাণিজ্য। নিয়মনীতির তোয়াক্কাই করেন না।

মওকা পেলে দুই হাতে লুটে নেন সব। আইন মানার বালাই নেই। তিনি যে আইনেরই লোক! কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই পড়ে যান রোষানলে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যোগদানের পর থেকেই বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার এএস আই সাইফুল গাজী ওই এলাকায় এক মূর্তিমান আতংকের নাম। যদিও এলাকার মানুষজনের কাছে তিনি হকেষ্টিক দারোগা নামে পরিচিত।

স্থানীয়রা জানায়, তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে হকি নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে সাধারন মানুষদের ভয়-ভীতি দেখান। ভুক্তভোগীদের মতে, নিরপরাধ মানুষকে আটকে নাশকতা,মাদক মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে প্রকাশ্যেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ০৭ জানুয়ারী দুপুড় ১টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের সঠিখোলা বোর্ড স্কুলের নিকট হতে মোহন, ও রনি নামের দুজনকে স্থানীয় লিটন দফাদারের সহায়তায় গ্রেফতার করে এএস আই সাইফুল গাজী। পরে আটকদ্বয়কে চরামদ্দি পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে ৩ ঘন্টা আটকে রেখে পকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাদের অভিভাবকরা।

পরে ছেড়ে দেয়ার শর্তে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা দাবী করা হয়।দরিদ্র অভিভাবকরা একপর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে এএস আই সাইফুল গাজীকে দিলেও ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসামীদের আটকে রাখা হয়। সারারাত আটকে রেখে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার শর্তে পূনরায় মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। একপর্যায়ে আটকদ্বয়ের ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে পূনরায় ২০ হাজার টাকা গ্রহন করে এএস আই সাইফুল গাজী । টাকা লেনদেনের সময় বাকেরগঞ্জ থানায় কর্মরত কনষ্টেবল সাইফুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাকা লেনদেনের সত্যতার স্বীকারোক্তি এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরের দিন ০৮ তারিখ দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়ে আটকদ্বয়কে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে গ্রেফতার হওয়া মোহনের কাকা ফারুক এই প্রতিবেদককে জানান,যেহেতু মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচার করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কেন টাকা নিল। তিনি নিজ হাতে এএস আই সাইফুল গাজীর হাতে টাকা দিয়েছেন বলে জানান। তিনি আরও জানান তার ভাতিজা মোহনকে ছেড়ে দেয়ার পর এএস আই সাইফুল গাজী ৮ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে ফোন করে ২৫,০০/-টাকা ফেরত নিতে বলেছেন। টাকা কেন ফেরত দিচ্ছেন জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন এই টাকা খরচ করতে হয়নি।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা্ নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির বলেন, আটক দুজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যে টাকা তারা অর্থদন্ড দিয়েছে তার রশিদ তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন মোবাইল কোর্টে দেয়া অর্থদন্ডের বাহিরে আর কোন টাকা গ্রহন করার সুযোগ নেই।যদি এর বাহিরে কেহ কোন প্রকার টাকা নিয়ে থাকে সেটা অবশ্যই অবৈধভাবে নিয়েছে।

গ্রেফতার ও মোবাইল কোর্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মাসুদুজ্জামান জানান, আটকদ্বয়ের কাছ থেকে সল্প পরিমান গাঁজা পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়নি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদন্ড করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশের টাকা পয়সা গ্রহনের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।