রাজনীতিতে আসছেন আশরাফকন্যা রীমা?

১০:৪৮ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ১২, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- স্থায়ীভাবে দেশে ফিরছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফের একমাত্র মেয়ে সৈয়দা রীমা ইসলাম। লন্ডনে ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। বাপ-দাদার শিকড় বাংলাদেশেই বাস করার চিন্তা করছেন তিনি।

রীমা ইসলামের এ সিদ্ধান্তে তাকে ঘিরে স্বপ্ন বোনা শুরু করেছে কিশোরগঞ্জের লোকজন। তারা সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তাকে ভাবতে শুরু করেছেন। অনেকে বাবার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে রীমাকে মনোনয়ন দেয়ারও দাবি তুলেছেন।

তবে, এখনই রাজনীতিতে নামার ইচ্ছে নেই প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মেয়ে রীমা ইসলামের। সময়ের চাহিদায় সিদ্ধান্ত বদলও হতে পারে- যা নির্ভর করছে দল বা দলের সভাপতির ওপর। এমনই আভাস দিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের নাতনি, প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একমাত্র কন্যা রীমা ইসলাম। কয়েক মেয়াদে মন্ত্রী এবং দুইবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা প্রচারবিমুখ বাবার মতোই রীমা। জনসম্মুখে খুব একটা দেখা যায়নি তাকে। সৈয়দ আশরাফের স্ত্রী’র অসুস্থতা ও চিকিৎসার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটির মাধ্যমে তাদের মেয়ে রীমা ইসলামকে প্রথম দেখেন অনেকে।

রাজনীতিতে আসার বিষয়ে, রীমা ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এখনই এমন কিছু চিন্তা করেননি তারা। মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরিবারে এ নিয়ে তেমন কোনো আলাপও হয়নি।

এ বিষয়ে রীমা ইসলামের চাচা সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যদি চান, আমাদের পরিবার থেকে কিশোরগঞ্জ-১ এ কাজ করার সুযোগ দেবেন।’

তবে, শেখ হাসিনা যেভাবে চান সেভাবেই হবে বলেও জানান সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যতদিন থাকবে এবং আমাদের পরিবার যতদিন থাকবে ততদিনই আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকতে চাই।’

অল্প সময়ের ব্যবধানে মা ও বাবাকে হারানো রীমা ইসলাম বাবার মতোই স্বল্পভাষী। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে চান তারা। বিদেশে জন্ম নেয়া ও বেড়ে উঠা রীমা ইসলামের পড়ালেখা ও কাজ যুক্তরাজ্যেই। পড়ালেখা শেষে সেখানেই একটি ব্যাংকে কর্মকতা হিসেবে যোগ দেন রীমা ইসলাম।

গত বছরের ৩ জুলাই সৈয়দ আশরাফ গুরুতর অসুস্থ হয়ে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি হন। অসুস্থ বাবার শুশ্রূষার জন্য কর্মস্থল ছেড়ে ব্যাংককে ছুটে আসেন রীমা। আশা ছিল উন্নত চিকিৎসায় অচিরেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার তার বাবা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগের মতোই ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান সৈয়দ আশরাফ।

রীমার জীবনটাই অনেকটা ট্র্যাজেডি। এক বছরের মাথায় হারান বাবা-মা দুজনকে। ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর পরম মমতাময়ী মা শীলা ইসলামকে হারান। সেই ধাক্কা সামলে ওঠেন বাবার স্নেহ ও অকৃত্রিম ভালোবাসায়। বছর পেরোতেই শেষ আশ্রয় বাবাকেও হারালেন তিনি। ৩ জানুয়ারি ব্যাংককে চিকিৎসাধীন মারা যান বাংলাদেশের রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ আশরাফ।