ওমরাহ হজ পালনের নাম করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাগিয়ে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা

১:১১ অপরাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ১৩, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের উচ্চারণে বাংলায় কথা বলেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মত ওরাও মুসলিম। বিভিন্ন জেলায় স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে পাসপোর্ট জোগার করেছেন পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য। এরা প্রত্যেকেই মিয়ানমারের নাগরিক, রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছে এরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহারকারী ১৩ রোহিঙ্গাকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- সবগুলো পাসপোর্টই ২০১১ থেকে ’১৪ সালের মধ্যে ইস্যু দেখিয়ে নবায়নের নামে এমআরপি করা হয়েছে। এসব পাসপোর্টে বগুড়া, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পাবনার ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পেতে তাদের গুণতে হয়েছে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।

বেশিরভাগ পাসপোর্ট ইস্যু হচ্ছে বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে। কয়েক ধাপে যাচাই বাছাইয়ের বিধান থাকার পরও পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনার কোন দুর্বলতায় রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পায়?

এমন প্রশ্নে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তারাও খতিয়ে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট কমকর্তা কর্মচারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান পরিচালক।

এর আগে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নকল করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট পেতে করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা এসব সামাল দিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’

নাঈম মাসুদ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আত্মীয়-স্বজন অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এখানকার রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছে এক শ্রেণির দালাল। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র হুবহু নকল করে তাদের পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হচ্ছে। তবে ভুয়া এনআইডি শনাক্ত করতে আমরা ব্যাপক ব্যাপক যাচাই-বাছাই করে থাকি। ফলে সহজে কোনও রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট পাবে না।’