সংবাদ শিরোনাম

শাহবাগে আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশপুলিশের লাঠিপেটায় সড়ক ছাড়লেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীরানেশার ঘোরে মসজিদে ঢুকে ভাঙচুর, যুবক আটকটাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ভায়রা নিহতফরিদপুরের দুই ভাইয়ের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ক্রোকের নির্দেশইউএনওকে বহনকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদেঝালকাঠিতে আলোচিত শাহাদাৎ হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবনলালমনিরহাট সীমান্তে ভারতীয় পুলিশের হাতে বাংলাদেশি যুবক আটকচুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের পর আখক্ষেত থে‌কে গৃহবধূর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধারপিলখানার শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

  • আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা


রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন সুজন কুমার সাহা নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ডিএমপির মিরপুর বিভাগের শাহ্ আলী থানায় সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত আছেন।

রাজধানীর মিরপুরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ শিশু-কিশোর ছিনতাইকারী চক্র। এই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রটির অত্যাচারে অতিষ্ট মিরপুুরবাসী। তবে সময়ের কণ্ঠস্বরের অনুসন্ধানে তাদের মদদদাতা হিসেবে বেড়িয়ে এসেছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও। রয়েছে মিরপুরের হযরত শাহ্ আলী মাজার সংলগ্ন কয়েকটি দোকানের মালিকদের ছত্রছায়াও।

মিরপুর-১ নম্বরের সনি সিনেমা হল থেকে শুরু করে মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্স, কো-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট হয়ে মিরপুর মাজার শরীফ পর্যন্ত এলাকাটুকুতেই ১০/১৫ জন কিশোরীসহ প্রায় ৫০/৬০ জনের এই গ্রুপটি ৩-৪ সদস্য বিশিষ্ট ১৫ টি দলে বিভক্ত হয়ে ছিনতাই যজ্ঞে লিপ্ত থাকে। মুলত বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত তারা ছিনতাই যজ্ঞে লিপ্ত থাকে। এই চক্রের কিছু শিশু-কিশোর-কিশোরী তাদের বাবা-মায়ের ছত্রছায়ায় ছিনতাই এই কুকর্মে লিপ্ত থাকলেও বেশির দিনরাত যাপন করে মাজার প্রাঙ্গনসহ মাজারের আশপাশের তাদের মদদদাতা কয়েকটি চায়ের দোকানে। রাতদিন যে কোন সময় মাজার শরীফের উপরের গেটে শাহ আলী গার্লস কলেজ মার্কেটের সামনে চোখে পড়ে শুয়ে বসে থাকা প্রায় পঞ্চাশেরও বেশি শিশু-কিশোর-কিশোরী। এরাই দিনের নির্ধারিত সময়মত দলে দলে বিভক্ত হয়ে ওঠে নেমে পড়ে ভয়ঙ্কর ছিনতাইযজ্ঞে। যজ্ঞের শিকার হয়েছেন সাধারন মানুষ, সাংবাদিক, পুলিশ এমনকি প্রশাসনের উর্ধ্বতন ব্যাক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও।

কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় এই মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রতিটি দলকে পাহারা দেয়ার জন্যে নিয়োজিত থাকে ১/২ জন যুবক। মুলত তাদের টার্গেট থাকে বাজার করতে আসা ভ্যানিটি ব্যাগধারী নারী পথচারীগণ। অভিনব কায়দায় নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগে হাত মেরে যেভাবে মোবাইল টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়, না দেখলে বিশ্বাসই হবেনা কারোর। ভীড়ের ভেতরে এই শিশু কিশোর ছিনতাইকারী চক্রের কোন দল অভিনব কায়দায় কোন কিছু হাতিয়ে নিলেই তাদের ধরে ফেলে পাহারারত অপেক্ষাকৃত বয়স্ক কিশোর-যুবক সদস্যরা। ছোটদেরকে দুই-একশ টাকা বা একটি ড্যান্ডির বোতল (ডেন্ড্রাইট নামক এক ধরনের আঠা যা তারা মাদক হিসেবে ব্যবহার করে করে) ধরিয়ে দিয়ে ছিনতাইকৃত মোবাইল নিয়ে যায়। চোরের ওপরে বাটপারী করে প্রতিদিন হাতিয়ে নেয়া বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন, স্বর্নালংকার ও দামী জিনিসপত্র কোথায় বিক্রি হয়? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধানে নেমেছে সময়ের কণ্ঠস্বর।

১২ ই জানুয়ারী রাত আনুমানিক নয়টা। হঠাৎ চোখে পড়লো এই শিশু-কিশোর-কিশোরীরা দিগ্বিদিক ছুটছে মরিয়া হয়ে। পাশে চোখ ফেরাতেই চোখে পড়ল দুই-তিনজন পুলিশ সদস্য লাঠি হাতে তাদেরকে তারা করছেন। কৌতুহল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সুজন কুমার সাহা নামে শাহ্ আলী থানার ওই এএসআইকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এরা ভয়ংকর ছিনতাই কারী চক্রের সদস্য। শাহ আলী থানার একজন কনস্টেবলের এক আত্মীয়ের ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়েছে এরা।

এএসআই সুজন কুমার সাহা আরো বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের এই সক্রিয় গ্রুপটির কার্যক্রকম ইতমধ্যেই পুলিশের নজরে এসেছে। তারা অভিনব কায়দায় জনসাধারনের দামী মোবাইল ফোন, স্বর্নালংকার, টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। আমি এই মূহুর্ত থেকে এই চক্রটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। মিরপুরে কোনো ছিনতাইকারী চক্র থাকবে না। এবং কারা এদের মদদদাতা সেটাও অনুসন্ধান করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে এই মূহুর্ত থেকেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম। বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে যেদিন থেকে জনসেবার ব্রত নিয়ে নিজেকে নিয়োজিত করেছি। সেদিন থেকেই আমি কোন অপরাধী চক্রের সন্ধান পেলে তাদেরকে কোন রকম ছাড় দিইনি। এই চক্রটিও ছাড় পাবে না। এদের মূলোৎপাটনে আইনী প্রক্রিয়ায় করনীয় সকল কিছু করতে আমি সদা প্রস্তত।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের শাহ্ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালাউদ্দিন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা মাঝে মাঝে পেলেও অপরাধীরা ১০ বছরের কম বয়সী শিশু প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তেমন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়না। তবে আমি আমার দায়িত্বাধীন শাহ্ আলী থানার সকল পুলিশ সদস্যদের এই বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেদিকে আমার অফিসারগণ সদা সজাগ দৃষ্টি রাখবে।

◷ ২:২৮ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, জানুয়ারী ১৩, ২০১৯ ঢাকা