• আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নাব্যতা সঙ্কটে কুলিয়ারচরের দুই নদ-নদী এখন ফসলী ভূমি

৩:৩২ অপরাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ১৩, ২০১৯ ঢাকা

মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদ আর মেঘনা নদীর শাখা কালী নদীর অনেকাংশ জায়গা জুড়ে আবাদ হচ্ছে ধান সহ নানা ফসলের।

এক সময়ে খড় স্রোতা বহমান এই ব্রক্ষপুত্র নদ আর কালী নদীর বুকে শোভা পেতো লঞ্চ, স্ট্রীমার সহ নানা রং বে-রঙ্গের পাল তোলা নৌকা। মাঝি মাল্লারা গলা ছেড়ে গান গাইতো পল্লী গীতি, ভাউয়াইয়া আর ভাটিয়ালী। নাব্যতা সঙ্কট আর নদী খননের অভাবে এ নদ-নদী গুলো এখন নানা আবাদি ফসলের ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

নদী খেঁকোরা সুযোগ বুঝে নদীর দুই তীরে ফসল আবাদের মাধ্যমে দখল করে নিচ্ছে নদ-নদী। নাপিতের চর, ফরিদপুর, সালুয়া, ডুমরাকান্দা, বীর কাশিম নগর, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদ আর লালপুর, কলাকূপা, মাধবদী, ছয়সূতী, কুলিয়ারচরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালী নদীর অনেক স্থান শুকিয়ে গেছে। সে সমস্ত স্থানে এখন নৌ-যান আর অথই পানির বদলে শোভা পাচ্ছে ধান সহ নানা রকম ফসল।

এছাড়া ছয়সূতী ইউনিয়নে তৎতকালীন রাজা প্রতাপ নাথের নামের বাজারটিও কালী নদী শুকি যাওয়ার সাথে সাথে বিলীন হয়ে গেছে। বাজারের বিভিন্ন স্থান এখন ভূমী দস্যুদের দখলে রয়েছে বলে জানা যায়।

সুশীল সমাজের লোকজন মনে করছেন, নদী খেঁকোদের উৎখাত আর নদী খনন করা না গেলে অচিরেই কুলিয়ারচরের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে এ দুটি নদ-নদী।

কুলিয়ারচর ভূমি অফিস কর্মকর্তা (এসি ল্যান্ড) জৌতিশ্বর পালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নদী খননের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদও রয়েছে এতে। তাছাড়া ধাপে ধাপে কালী নদীর খনন কাজও হাতে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা উদ্দ্যোগ নিচ্ছি।