ফুলবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

◷ ৪:৩২ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, জানুয়ারী ১৩, ২০১৯ অর্থনীতি

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষানীর মুখে হাসির ঝিলিক। এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত রবি শস্যের উপর নির্ভরশীল।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় – এ বছর কোন জমি আর পতিত নেই বিস্তৃর্ণ জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজের সমাহার। উপজেলার গজেরকুটি, বালাহাট, নাওডাঙ্গা, গোরকমন্ডপ, চরগোড়কমন্ডল, বালাটারী, কুরুষাফেরুষাসহ শত শত একর জমিতে ব্যাপক হারে মরিচের চাষ করেছে কৃষক। মরিচের চাষ করেই কৃষকদের জীবন জীবিকা চলে। বর্তমানে চাষিরা কেউ ঘরে বসে নেই। কেউ মরিচ ক্ষেত পরিচর্যার কাজ করছে, কেউ ক্ষেতের মরিচ তুলছেন। আবার কেউ কেউ মরিচ বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে।

যাদের জমি নাই তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে নানা ধরনের সবজির চাষ করে জীবিকা নিরবাহ করছে। চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন দেখা দিয়েছে। মরিচ চাষিরা আগাম মরিচ চাষ করে বদলে দিয়েছে নিজের ভাগ্যের চাকা। গত বছরের চেয়ে এ বছর মরিচ বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরা লাভবান হয়েছেন। সেই সাথে পাইকারী ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে বিঘা বিঘা মরিচ ক্ষেত কিনিয়েও তারাও লাভবান হয়েছে। মরিচ পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি বিঘা মরিচ ক্ষেত ৩০/৪০ হাজার ক্রয় করে। তারাও মরিচ তোলা লেবার, অটো ও ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরণের খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ১০ /১২ হাজার টাকা আয় করেন।

স্থানীয় কৃষক ও পাইকাররা (ব্যবসায়ী) ক্ষেতের মরিচ ট্রাক-অটোরিকসা ও ভ্যান যোগে কুড়িগ্রাম জেলা শহর, উলিপুর ও লালমনিরহাট শহর, বড়বাড়ী বাজার গুলোতে দেশের দুর-দুরান্তের পাইকার (ব্যবসায়ীদের কাছে ৮০০/১০০০ টাকা দরে মরিচের মন বিক্রি করে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের মরিচ চাষি আবেদ আলী বলেন, তিনি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছে। প্রতি বিঘা মরিচ চাষ করতে ১২/ ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি প্রতি বিঘা মরিচ ক্ষেত বিক্রি করেছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান, এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হওয়ার পরেও গত বছরের চেয়ে দাম কম হওয়ায় লাভও একটু হয়েছে।

কৃষক তাহের আলী, রেজুদুল ইসলাম, ফারুক, দেলদার মুন্সী ও মনু মিয়া জানান, তারা প্রত্যেকেই তিন থেকে চার বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এ বছর মরিচের তেমন কোন রোগ হয়নি। ফলনও গত বছরের চেয়ে ভালই হয়েছে। এ বছর মরিচের দামও ভাল পেয়েছি। ৩৫/৪০ হাজার টাকা করে প্রতি বিঘা মরিচ বিক্রি করেছি। মরিচ ভাল ফলন হলে বিঘা প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ মন করে আসবে।

এ ব্যাপারে মরিচ পাইকার (ব্যবসায়ী) আবুল কাসেম ও আব্দুল জলিল জানান, তারা দুইজন মিলে এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে ২০ বিঘা জমির মরিচ ক্ষেত প্রায় ৮ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। এ যাবদ ৫ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। প্রতিদিনেই ক্ষেতের মরিচ ২০ থেকে ২৫ জন নারী শ্রমিক দিয়ে মরিচ তোলা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, মরিচের বাম্পার ফলন ও দাম ভাল হওয়ায় কৃষকরা যেমন লাভবান হয়েছে আশা করছি আমরাও লাভবান হবো। প্রতি বিঘায় খরচ মিটিয়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হবে। বাজার দর ভাল হলে আশা করছি এর দ্বিগুণ আয় হবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষাবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কৃষকরা ভাল দামও পাচ্ছে। আমরা প্রতিটি কৃষকদের সার, বীজসহ বিভিন্ন ধরণে সহায়তা করেছি। বেশি করে মরিচ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় এ বছর যতেষ্ট সাফল্য অর্জিত হয়েছে।