জেলা বিএনপির কার্যালয় এখন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট!


সময়ের কণ্ঠস্বর, ঝালকাঠি- ঝালকাঠিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের আসবাবপত্র বের করে দিয়ে তালা মেরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভবন মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে। ওই কার্যালয়ে একটি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, শহরের ফায়ার সার্ভিসের সামনে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ভবনে ভাড়া চুক্তিতে জেলা বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বিএনপি অফিসের চুক্তিনামা ছিলো জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়ার নামে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মিঞা আহমেদ কিবরিয়া। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) জেলা বিএনপি কার্যালয়ের ভাড়া চুক্তি বাতিল করে সাইনবোর্ড অপসারণ ও মালামাল বের করে নিয়েছেন তার লোকজন দিয়ে।

পরে সেদিন বিকেলেই ওই ভবনের মালিক মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম সেখানে তালা লাগিয়ে দেন। বর্তমানে ওই ঘরটিতে আগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরাফাত হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্টিকার লাগিয়েছে মালিকপক্ষ। ফলে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো অফিস না থাকায় হতাশ হয়ে জেলার নেতা কর্মীরা। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিএনপি অফিসের তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ হোসেন জানান, মিঞা আহমেদ কিবরিয়া শুক্রবার ফোন করে অফিসের চাবি মালিক পক্ষের লোকজনের কাছে দিতে বলেন। এসময় সভাপতি ও সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালিক পক্ষ অফিসের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। পরে মালিক পক্ষের সাইফুল ইসলামকে চাবি দিলে তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন অফিসের মালামাল বাইরে বের করে অফিস তালা মেরে দেন।

নেতাকর্মীরা জানান, এই জেলা কার্যালয়টি মূলত ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়ার উদ্যোগেই কয়েক বছর আগে তার এক আত্মীয়র কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এতদিন কিবরিয়াই এই ভবনের ভাড়া পরিশোধ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা এবার মনোনয়ন না পেয়ে কিবরিয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে অফিস ছেড়ে দিয়েছেন।

জেলা বিএনপি সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার কাছে কিবরিয়া সাহেব ফোন করে বলেছেন, আমি অফিস ছেড়ে দিয়েছি। মালিক পক্ষকে ভবন বুঝিয়ে দিতে হবে। এ সময় আমি কিবরিয়াকে বলি, আমাদের সাধারণ সম্পাদক যেহেতু জেলে রয়েছেন, তিনি বের হলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে। কিন্তু এরপরও শুনি অফিসের মালামাল বের করে তালা মেরে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে মিঞা আহমেদ কিবরিয়া বলেন, ‘আমার আত্মীয়ের কাছ থেকে এই অফিসটি আমি ভাড়া নিয়েছিলাম। এখন পারিবারিক সমস্যার কারণে অফিসটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। অফিসের মালামাল আমার হেফাজতে রয়েছে।’

তবে মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে অফিস ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন বিএনপির এই নেতা।

◷ ৩:৫২ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জানুয়ারী ১৪, ২০১৯ আলোচিত