পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কাটার অভিযোগ!

৪:১২ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ১৪, ২০১৯ বরিশাল

জাহিদুল ইসলাম,পটুয়াখালী প্রতিনিধি- পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে অভ্যান্তরীন সড়কের দু পাশের এসব গাছ চেয়ারম্যানের বাড়ির লোকজন কেটে নিলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে স্থানীয় বাদুরা বাজারের একটি স্ব-মিল থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গাছের টুকরা জব্দ করায় বর্তমানে গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে গাছ কাটার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই দাবী করেছেন হুমায়ুন কবির।

রবিবার সকালে সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের শরীফ বাড়ী স্টান্ড থেকে আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পর্যন্ত সড়েকর দু’পাশের মেহগনি ও আকাশমনি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। সড়কের মোল্লা বাড়ির উত্তর পাশ থেকে ২টি আকাশমনি, মইনউদ্দিন হাওলাদার বাড়ির সামনে থেকে একটি মেহগনি এবং দুটি আকাশমনি, শরিফ বাড়ী থেকে খাঁ বাড়ি পর্যন্ত ২টি মেহগনি ও ২টি আকাশমনিসহ বিভিন্ন বাড়ি, মসজিদ, কালভার্ট ও বাজার থেকে অন্তত ১৯টি বড় অকারের গাছ কেটে নেয়ার প্রমান মিলেছে। এসব গাছের কান্ড (গোড়া) পরে রয়েছে। বর্তমানে তা আড়াল করতেও সক্রিয় চেয়ারম্যানের লোকজন।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে চেয়ারম্যানের ভাতিজা হিসেবে পরিচিত বেল্লাল মৃধা এবং সোহেল মৃধার নেতৃত্বে এসব গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। তবে গাছ কেটে নেয়ার আগে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির নিজেই এসব গাছ দেখিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তারা। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির নিজ বাড়ির আসবাবপত্রসহ দরজা জানালা কাজে ব্যবহার কারতে এসব গাছ কেটেছেন।

প্রায় এক দশক আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সড়কের দু পাশে মেহগনি ও আকাশমনি গাছ লাগানো হয়। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার তত্বাবধানে এ গাছ রোপন করা হলেও স্থানীয়রা এর দেখভাল ও পরিচর্জার দায়িত্বে ছিলেন। সে সময়ে স্থানীয়দের গাছের একটি লভ্যাংশ দেয়ার কথা ছিলে। তবে হঠাৎ করেই চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে গাছ কেটে নেয়ায় হতবাক তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, গাছ কাটার সাথে তার কোন সম্মৃক্ততা নেই। তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে আছেন। এলাকায় ফিরে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে কিছু গাছ স্থানীয় একটি স্ব মিল থেকে জব্দ করা হয়েছে। কি পরিমান গাছ কাটা হয়েছে তা নিরুপন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।