দৌলতদিয়া পতিতালয়ে প্রকাশ্যেই মাদকের ছড়াছড়ি

◷ ৪:৫৩ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জানুয়ারী ১৪, ২০১৯ ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক,সময়ের কণ্ঠস্বর- দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ২১ টি জেলা থেকে রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া ফেরীঘাটটি নানা কারনে বিখ্যাত। দেশের সর্ববৃহৎ পতিতাপল্লীটিও এই দৌলতদিয়া ঘাটেই অবস্থিত। যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার যৌনকর্মীর বসবাস।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সহজ সরল মেয়েদের ভাল কর্মসংস্থানের আশ্বাস অথবা প্রেমের ফাঁদে ফেলে দালালরা এখানে নিয়ে এসে বিক্রি করে। অসহায় নারীরা যখন বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন, তখন তাদের আর কিছুই করার থাকে না। পল্লীর ভেতরে বসবাসে ওই পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে এই মেয়েগুলোর অনেকেই জড়িয়ে পড়ে নানামুখী অপরাধ জগতে।

সময়ের কণ্ঠস্বরের অনুসন্ধানে পতিতাপল্লীতে বাসরত জুঁই আক্তার নামে এমনই একটি মেয়ের সন্ধান মিলেছে। প্রায় ছয় বছর যাবত জুুঁই বসবাস করছে এই যৌনপল্লীতে। বর্তমানে সে আনজু বাড়ী আলী নামে পল্লীর এক প্রভাবশালী বাড়ীওয়ালীর বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেখানে বসবাস ও দীর্ঘদিন পতিতাবৃত্তির ধারাবাহিকতায় নতুন নতুন নানা লোকজনের সাথে এই মেয়েটির পরিচয় ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে নানা রকম মাদকের সেবনের সাথেও জড়িয়ে পড়ে জুঁই। পতিতাপল্লীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে তার দহরম মহরম গড়ে ওঠে। পাইকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরী করে এক সময় সে নিজেই জড়িয়ে পড়ে মরন নেশা ইয়াবা ব্যবসায়। শুধু জু্ঁই একাই নয়। পল্লীর অনেক মেয়েই এধরনের অপরাধের রাজ্যে অবলীলায় ভাসিয়ে দিয়েছে নিজেদেরকে। পতিতাপল্লী ও উপজেলার আশপাশের এলাকায় ইয়াবা সর্বরাহসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও পাচার করছে পল্লীতে বসেই। গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ভাগলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জেলাশহর পুলিশের তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জলিল ও তার ভাগনে নতুন মাদক সম্রাট সেলিম দুজনই সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে বেড়িয়ে পুনরায় জুঁইকে নিয়মিত পাইকারী ইয়াবার চালান সর্বরাহ করে বলে জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, পতিতাপল্লীর ভেতরে প্রায় বিশটি নির্দিষ্ট মাদকের দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে দেশী বাংলা মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক। মাদকাসক্ত হয়ে নাচগান করার জন্য রয়েছে উচ্চ শব্দযুক্ত গান শোনার যন্ত্র। পতিতাপল্লীকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের এক বিশাল সম্রাজ্য। ভেতর-বাইরের প্রতিটি জুয়া ও মাদকের স্পট থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমানে বখরা দিতে হয়। তাছাড়া সামান্য অর্থের বিনিময়ে নিরাপদে বাসযোগ্য বলে দেশের অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে স্থানটিকে ব্যবহার করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৌলতদিয়া অঞ্চলের কয়েকজন বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন-যৌনতা ও মাদকদ্রব্যের মত ঘৃণ্য বস্তুর সহজলভ্যতার শিকার হয়ে এলাকার যুবসমাজ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এদেরকে রক্ষা করতে স্থানীয় ঐক্য ও প্রশাসনের দৃঢ় হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরী। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মত ঘটনা এই অঞ্চলে নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা।

এপ্রসংগে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। তাছাড়া এসংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান পুর্বক যথাযোগ্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রমানিত হলে সে যেই হোক কোনো ছাড় দেয়া হবেনা। আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।