• আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত  বিস্কিট যাচ্ছে প্রধান শিক্ষকের বাসায় !

১১:১৭ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ১৪, ২০১৯ রংপুর

ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রাইমারী  স্কুলের বাচ্চাদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ প্যাকেট বিস্কুটসহ ফেরদৌসী আক্তার নামে এক প্রধান শিক্ষিকাকে আটক করে জনতা।

তবে ঐ প্রধান শিক্ষিকা বলেন তার বাচ্চা স্কুলের বিস্কুট ছাড়া অন্য বিস্কুট খাননা বিধায় নিয়েছিলেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই বিস্কুট জব্দ করে নিয়ে যান শিক্ষা অফিসার।

সোমবার (১৪ জানুয়ারী) বিকালে উপজেলার খানের বাজার এলাকায় অবস্থিত খানপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে। ফেরদৌসী আক্তার উপজেলার অডিটোরিয়াম চত্বর এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী “পাটোয়ারী ফার্মেসি” রতন মিয়ার স্ত্রী।

সরেজমিনে ঐ এলাকায় গিয়ে কথা বললে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও খানপাড়া সরকারি প্রাথমিল বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুতসাহী সদস্য ও গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী জানান, স্কুলের কয়েকজন  ছাত্রছাত্রী সরকারি বিস্কুট না পাওয়ার কথা তাদের অভিভাবককে জানান। সোমবার বিকালে স্কুল ছুটির পর প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তার বাসা যাবার সময়, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উপর কয়েকজন অভিভাবক ফেরদৌসী আক্তারের হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করেন। এসময় তার ব্যাগ হতে ৪০ প্যাকেট সরকারি বিস্কুট পাওয়া যায়। এদিকে এ ঘটনার পর অবস্থা বেগতিক দেখে ঔ স্থান থেকে ছটকে পড়েন প্রধান শিক্ষিকা।

রমজান আলী আরও বলেন,  পরে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী  শিক্ষা  অফিসার আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ ৪০ প্যাকেট সরকারি বিস্কুট জব্দ করেন এবং উপস্থিত জনতাকে  প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তারের  বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়াও এবিষয়টি স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেনকে জানালে তিনি ঐ প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তারের  বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে আরও জানা আওয়ামী নেতা রমজান আলী।

স্কুলের সরকারি বিস্কুট বাচ্চাদের না দিয়ে বাড়ি নিয়ে যাবার বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, আমি প্রতিদিন এভাবে স্কুলের বিস্কুট বাড়ি নিয়ে যাইনা।  মাঝখানে স্কুল অনেকদিন বন্ধ ছিলো তাই নিয়ে যেতে পারি নাই। আজকেই প্রথম।

তিনি আরও বলেন, আমার ছোট একটি বাচ্চা আছে। সে স্কুলের বিস্কুট ছাড়া অন্য বিস্কুট খাননা, তাই নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম।

এবিষয়ে কথা হলে খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হানিফ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের বাচ্চার সরকারি বিস্কুট পাননা আর প্রধান শিক্ষা ফেরদৌসী আক্তার বিস্কুট নিয়ে বাড়ি যান। এভাবে স্কুল চলতে পারেনা।

তিনি আরও বলেন, অতিদ্রুত সময় স্কুল কমিটির মিটিং ডেকে ঐ শিক্ষিকা বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেজুলেশন করে তা উপজেলা শিক্ষা অফিসে দেয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোলায়মান মিয়া বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এবিষয়ে তদন্তপুর্ব শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তারের বিরুদ্ধে   প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।