মানিকগঞ্জের শিবালয়ে অবৈধ ড্রেজারে মাটি কাটার অভিযোগ

৭:১৩ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৫, ২০১৯ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ রিপোর্টার:  মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারনে ছেড়ে দেয়া ও মাটি কাটা অব্যাহত থাকায় গ্রামবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, আরুয়া ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভাঙ্গনে বিলিন হয়। ঘর-বাড়ী হারিয়ে অসংখ্য মানুষ নি:স্ব হয়ে গেছে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পদ্মায় জেগে উঠা বিল ভৈরব মৌজার বাঘুটিয়া-পাঁচুরিয়া গ্রামের নিকট অসৎ উদ্দেশ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ ভারী ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে লক্ষ লক্ষ ঘনমিটার পলি কেটে নৌকায় ভরে নিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেনির ব্যবসায়ী।

নদী ভাঙ্গনের আশংকায় নদী তীরবর্তী স্থানীয় লোকজন মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে গত ১০ জানুয়ারী শিবালয় থানা পুলিশ ড্রেজিংকাজে যুক্ত ১৩ ব্যক্তিকে আটক করে। ‘অজ্ঞাত’ কারনে পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পুলিশের হাত থেকে ছাড় পাওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় নদী বক্ষে বিপুল উৎসাহে মাটি কাটা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারী আকৃতির ৩/৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন মাটি কেটে বলগেটযোগে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানকালে ড্রেজারের লোকজন সাংবাদিকদের ছবি তুলতে নিষেধ ও তথ্য দিতে অপরাগতা জানায়।

এরুপ মাটি কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার এলাকাবাসী আরুয়া দেবীনগর জামে মসজিদ মাঠে শনিবার রাতে এক সভায় মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ খান।

তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উপস্থিত জনতা এ সকল অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ ও সাজ-সরঞ্জাম উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দু’একদিনের মধ্যে এ সকল অবৈধ ড্রেজার না সরালে জনগন বৃহত্তর কর্মসূচী গ্রহন করবে।

শিবালয় থানার ওসি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নিয়ম মেনে ওই স্থানে পলি কাটার কাজ চলছে।