‘আহমদ শফীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’

৪:৩৮ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৫, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর নারীদের লেখাপড়ার বিরুদ্ধে দেয়া ‘অবৈধ ফ‌তোয়ার’ প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারী শ্রমিক নেতারা। এই ফতোয়ার প্রতিবাদে আহমদ শফীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেন তারা।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

উপস্থিত নারী শ্রমিকরা বলেন, বাংলাদেশের সরকারদলীয় নেতা নারী, বিরোধী দলেও নারী নেতা আছেন। হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নারী। নারীরা শিক্ষিত না হলে দেশের উন্নয়ন বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ অবস্থায় হেফাজতের আমির আহমদ শফী নারীদের পড়াশোনা না করার ফতোয়া দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে একটি দেশের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করার ফতোয়া। তাই, অনতিবিলম্বে আল্লামা শফীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

সুবর্ণচরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তারা বলেন, মাওলানা শফীকে কখনো নারীদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শোনা যায়নি। উনার এমন নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে এক শ্রেণির মানুষ নারীদেরকে অপমান ও নির্যাতন করতে আরো উৎসাহী হয়ে উঠে।

এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও খুনের বিচারেরও দাবি জানান।

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) এক মাহফিলে মেয়েদের সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য উপস্থিত অভিভাবকদের ওয়াদা করান। জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিলে তার দেওয়া বক্তব্য ভিডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এর মধ্যেই মেয়েদের পড়ালেখা নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় নতুন করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় হেফাজত আমির। আহমদ শফী বলেন, ‘কারও বক্তব্যকে ব্যাখ্যা দিতে হলে আপনাকে তার কথা বুঝতে হবে। অনুধাবন করতে হবে। না বুঝে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো এক ধরনের অপরাধ। আর খণ্ডিত বক্তব্যকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আরও বড় অপরাধ। কোনো কিছু লিখতে চাইলে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তাশীল হয়ে সঠিক কথাটি লিখবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। আমাকে নারী বিদ্বেষী, নারীশিক্ষাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। আমি এসব কথার জবাব দিয়েছি।’

বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, ‘আবারও বলছি, নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার ব্যবস্থা করুন এবং তাদের জীবন ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কেউ কারও কন্যাকে অনিরাপদ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। কারণ, দৈনিক পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন চোখে পড়ছে কোথাও না কোথাও কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে অথবা খুন করা হয়েছে। নৈতিকতা অর্জন না হলে ধর্ষণ, খুন ও উত্ত্যক্তকরণ বন্ধ হবে না। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর হবে না। ইসলামই ফিরিয়ে দিয়েছে নারীর প্রকৃত সম্মান। আমার কথার সারাংশ হলো উচ্চশিক্ষা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াতে চাইলে বোরকা পরতে হবে এবং তাদের শিক্ষকও মহিলা হবেন।’